সিউড়ি: বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ওরফে নাজিবউদ্দিনের বাড়িতে আদালতে হাজিরার নোটিস সাঁটিয়ে দিল প্রশাসন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরেও তাঁর কোনও হদিশ না মেলায় বৃহস্পতিবার সকালে সিউড়ির সুভাষপল্লিতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছন প্রশাসনের আধিকারিকেরা। নোটিসে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে সিউড়ি আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টুলু মণ্ডল বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, তা এখনও তদন্তকারীদের কাছে স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। এর পর আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড কর্নার নোটিসও জারি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির না হলে তাঁকে ঘোষিত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ সুভাষপল্লিতে টুলুর বাড়ির সামনে পৌঁছন প্রশাসনের আধিকারিকেরা। সেখানে আদালতের নির্দেশ সংক্রান্ত একটি নোটিস সাঁটানো হয়। ইংরেজি হরফে ছাপা ওই নোটিসের পাশাপাশি বাংলায় একটি বিশেষ ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। তাতে টুলুর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনের দেওয়া ঘোষণায় বলা হয়েছে, সংগঠিত অপরাধ, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মতো অভিযোগে টুলুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। পরোয়ানা জারির পরেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্তকারীদের অনুমান, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপন করে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আদালতের তরফে তাঁকে পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
টুলুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের এই নোটিসকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি হাজির না হলে তাঁকে ঘোষিত অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করার পথ আরও প্রশস্ত হবে। এর পর তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী।
এর আগে পাথর খাদান এলাকাতেও টুলুর আদালতে হাজিরার বিষয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন জায়গায় নোটিস দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার পাথর খাদান এলাকায় ঘোষণা করা হয়। তার পর বৃহস্পতিবার তাঁর সিউড়ির বাড়িতে নোটিস সাঁটানো হল।

টুলুকে ঘিরে তদন্তের সূত্রপাত আরও জোরালো হয় সম্প্রতি। বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে তাঁর এক আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। একই অভিযানে প্রায় ১৫ কেজি সোনাও উদ্ধার করা হয়। বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং সোনা উদ্ধারের পর তদন্তকারীদের নজর আরও ঘনিষ্ঠ ভাবে টুলুর দিকে যায়।
এর পর থেকেই টুলুর সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় তাঁর সম্পত্তির সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। টুলুর একাধিক সম্ভাব্য ঠিকানাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর আত্মীয়স্বজন এবং ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতেও তদন্তকারীরা পৌঁছে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

টুলুর বিরুদ্ধে থাকা মামলার তদন্তে তাঁর অবস্থান এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি কোথায় আত্মগোপন করে রয়েছেন, তাঁর সঙ্গে আর কারা যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁর নামে বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের নামে থাকা সম্পত্তির পরিমাণ কত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আদালতে হাজিরার নোটিস কার্যকর করার বিষয়টিও নজরে রয়েছে প্রশাসনের।
