উন্নয়ন ও জনসংযোগে জোর মোদীর
দিল্লি: পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবন ৭, লোককল্যাণ মার্গে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দিলেন এনসিপিআইয়ের সাংসদেরা। এনডিএ-র বিভিন্ন দলের সাংসদদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের এনসিপিআই সাংসদেরাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের নিজ নিজ লোকসভা কেন্দ্রে আরও বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সচেতনতার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
বৈঠক শেষে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের জানান, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা পশ্চিমবঙ্গ তথা মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি। রাজ্যে সংখ্যালঘুরা বিভিন্নভাবে বঞ্চিত ও অত্যাচারিত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমরা সেই বিষয়গুলি তুলে ধরেছি।’

শুক্রবারের বৈঠকে উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, বাপি হালদার-সহ একাধিক সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষভাবে নজর কাড়ে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানের উপস্থিতি। সম্প্রতি তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
সূত্রের খবর, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ এখনও লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। এই বিষয়ে স্পিকারের কাছে আবেদনও জমা পড়েছে। সেই আবহেই সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক এবং পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের উপর প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি চল্লিশোর্ধ্ব সাংসদদের নিয়মিত যোগাসন এবং বছরে অন্তত দু’বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শও দিয়েছেন।

বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী খুব আন্তরিকভাবে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রত্যেককে নিজের সংসদীয় এলাকায় উন্নয়নের কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সচেতন থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন।’
হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উদ্দেশে বলেন, দেশের উন্নয়নই সকলের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।
প্রাতরাশ বৈঠকে বিভিন্ন কেন্দ্রের স্থানীয় সমস্যার কথাও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন সাংসদেরা। মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার গঙ্গাসাগর মেলায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালে প্রধানমন্ত্রী জানান, সুযোগ হলে তিনি অবশ্যই যাওয়ার চেষ্টা করবেন।
