30 C
Kolkata
September 21, 2026
দেশ

শত্রুপক্ষের ড্রোন ধ্বংসকারী ‘লো রাডার ডিটেক্টেবিলিটি’ লয়টারিং মিউনিশনের নকশা নথিভুক্ত

প্রকল্পের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ড. শুভ্র চক্রবর্তী

নতুন দিল্লি: প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ‘লো রাডার ডিটেক্টেবিলিটি লয়টারিং মিউনিশন’ নামে একটি অভিনব নকশা ভারত সরকারের পেটেন্ট অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে। ডিজাইন নম্বর ৪৬৪১২৫-০০১-এর অধীনে ১২-০৭ শ্রেণিতে এই নকশার নিবন্ধন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই নকশাটির জন্য আবেদন করা হয়েছিল এবং ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নিবন্ধন সনদ জারি করা হয়।

এই প্রকল্পের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে রয়েছেন নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, অধ্যাপক, বিজ্ঞানী ও সমাজসংস্কারক ড. শুভ্র চক্রবর্তী। তিনি প্রকল্পটির অন্যতম আবেদনকারী ও সহ-নিবন্ধকও। নথিভুক্ত অন্যান্য আবেদনকারীরা হলেন অথর্ব অভিজিৎ চিতালে, পৃথ্বীরাজ বালি, অভয়, দেবাশিস নন্দী এবং ড. ধ্রুবজ্যোতি ভৌমিক।

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত মানববিহীন আকাশযানটির সামনের অংশ বিশেষভাবে সুবিন্যস্ত। এর সঙ্গে রয়েছে স্টেলথ প্রযুক্তি-অনুপ্রাণিত প্রশস্ত ডানা এবং মূল কাঠামোর উপরের দিকে সংযুক্ত এয়ার ইনটেক। নকশাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ডানার অভিনব সংযোগব্যবস্থা। এর সাহায্যে আকাশযানটির আকৃতি সম্পূর্ণ প্রসারিত ‘গ্লাইড মোড’ থেকে তুলনামূলকভাবে সংকুচিত ‘ডাইভ মোড’-এ পরিবর্তন করা সম্ভব বলে প্রকল্পের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিক উচ্চতা অর্জনের জন্য নকশায় দু’ধরনের সম্ভাব্য প্রপালশন ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ধীরগতির ও তুলনামূলক কম শব্দযুক্ত বিচ্ছিন্নযোগ্য প্রপেলার, অন্যটি অপেক্ষাকৃত দ্রুতগতির মিনি-জেট প্রপালশন ব্যবস্থা। প্রকল্পের ধারণা অনুযায়ী, স্থল বা আকাশ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে আকাশযানটি উৎক্ষেপণের পর প্রয়োজনীয় উচ্চতায় পৌঁছলে প্রাথমিক প্রপালশন ইউনিট বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এই নকশার নিবন্ধনের ফলে আকাশযানটির নির্দিষ্ট আকৃতি, গঠন ও দৃশ্যমান বিন্যাস আইনি সুরক্ষা পেয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সদস্যরা এই নিবন্ধনকে দেশীয় প্রতিরক্ষা-কেন্দ্রিক নকশা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।

তবে নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি থেকে নকশাটির বাস্তব সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। এর রাডার সিগনেচার, পাল্লা, গতি, ওয়ারহেড, নির্দেশন ব্যবস্থা বা অন্যান্য কার্যক্ষমতা সম্পর্কিত নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশিত নথিতে উল্লেখ নেই।

একইভাবে, নকশা নিবন্ধিত হওয়াকে কেন্দ্র করে এটি ইতিমধ্যেই তৈরি, পরীক্ষা, সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত বা কার্যকরভাবে মোতায়েন হয়েছে—এমন দাবি করার ভিত্তিও এই নথি দেয় না। সরকারি নথি থেকে নিশ্চিতভাবে যা জানা যায়, তা হল প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত এই নকশার জন্য আবেদন করা হয়েছিল এবং নির্ধারিত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সেটি নিবন্ধিত হয়েছে।

ডিজাইনস অ্যাক্ট, ২০০০ এবং ডিজাইনস রুলস, ২০০১-এর আওতায় এই নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তদের বক্তব্য, দেশীয় মেধাসম্পদ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও গবেষণা ও উন্নয়নের পথ খুলে দিতে পারে।

প্রকল্পের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ড. শুভ্র চক্রবর্তীর অংশগ্রহণকেও গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রকল্প দলের বক্তব্য, সমন্বিত শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত প্রয়াসের মাধ্যমে কৌশলগত ক্ষেত্রে দেশীয় নকশা ও উদ্ভাবনের পরিসর আরও বাড়ানো সম্ভব।

‘বড় সাফল্য প্রায়ই একটি ছোট্ট কড়া নাড়া থেকেই শুরু হয়’—এই বার্তাতেই নিজেদের সাফল্যকে তুলে ধরেছে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত দল।

Related posts

Leave a Comment