July 31, 2026
খেলা

ওজন কমানোর লড়াই খুব কঠিন, ঠিকমতো খেতেও পারি না: কমনওয়েলথ গেমসের ফাইনালে উঠে জানালেন প্রীতি পাওয়ার

গ্লাসগো — কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পর বক্সিংয়ের অন্দরের কঠিন বাস্তব তুলে ধরলেন ভারতের তারকা বক্সার প্রীতি পাওয়ার। তাঁর কথায়, প্রতিযোগিতার আগে নির্দিষ্ট ওজন ধরে রাখার জন্য এমন কঠোর পরিশ্রম করতে হয় যে অনেক সময় ঠিকমতো খাবারও খাওয়া যায় না। তবে সেই কঠিন লড়াইই তাঁকে আরও অনুপ্রাণিত করে সোনার পদকের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে।

সেমিফাইনালে জাম্বিয়ার ক্যাথরিন মওয়াপেকে ৫-০ ব্যবধানে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন ২১ বছরের ভারতীয় বক্সার। এই জয়ের ফলে ভারতের জন্য অন্তত রুপোর পদক নিশ্চিত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে গ্লাসগোয় চলতি কমনওয়েলথ গেমসে ফাইনালে ওঠা প্রথম ভারতীয় বক্সারও হয়েছেন প্রীতি।

ম্যাচ শেষে প্রীতি বলেন, ‘এটা আমাদের প্রশিক্ষণেরই একটা অংশ। আমাদের অনুপ্রাণিত করে। বিষয়টা একটু কঠিন, কারণ আমরা ঠিকমতো খাবার খেতে পারি না। কিন্তু এই কষ্টই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা ফাইনাল থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে।’

সেমিফাইনালে শুরুতে কিছুটা সমানে সমানে লড়াই হলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন ভারতীয় বক্সার। দ্রুত জ্যাব, নিখুঁত কাউন্টার পাঞ্চ এবং শক্তিশালী কম্বিনেশনের মাধ্যমে তিনি প্রতিপক্ষকে একাধিক বার চাপে ফেলেন। পুরো লড়াই জুড়ে আত্মবিশ্বাসী ও সংযত থেকে সহজেই জয় নিশ্চিত করেন প্রীতি।

এর আগে শেষ ষোলোয় মালাউইয়ের এমতেনজেকে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের নিকোল ক্লাইডকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। প্রতিটি ম্যাচেই ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালে পৌঁছেছেন ভারতীয় বক্সার।

এবার সোনার পদকের লড়াইয়ে প্রীতির সামনে কানাডার স্কারলেট ডেলগাডো। চলতি বছর বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জয়ের পর কমনওয়েলথ গেমসেও সোনা জিতে নিজের সাফল্যের মুকুটে আরও একটি বড় পালক যোগ করতে চান তিনি।

রুপোর পদক নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের সাফল্যের কৃতিত্বও ভাগ করে নিয়েছেন প্রীতি। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনী, বক্সিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (বিএফআই), স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এসএআই) এবং জেএসডব্লিউ স্পোর্টসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

প্রীতির কথায়, ‘ভারতের জন্য অন্তত একটি রুপোর পদক নিশ্চিত করতে পেরে আমি খুব খুশি। ফাইনালে নিজের সেরাটা দেব। ভারতের জন্য সোনার পদক জিততে চাই। ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিএফআই, এসএআই এবং জেএসডব্লিউ স্পোর্টস আমাকে সব সময় সমর্থন করেছে।’গত বছর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সরাসরি জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) হিসেবে যোগ দেওয়া প্রথম মহিলা ক্রী

অনুপ্রেরণা দেয় বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রীতির কথায়, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ওঁরা আমার উপর ভরসা করেছেন। আমি নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের মানুষ এবং সেনাবাহিনীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।’

Related posts

Leave a Comment