গ্লাসগো — কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ দুরন্ত ছন্দ বজায় রেখে পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগের ফাইনালে উঠলেন ভারতের বক্সার অঙ্কুশ পঙ্ঘাল। শুক্রবার সেমিফাইনালে কানাডার জোশুয়া ওফোরিকে ৫-০ ব্যবধানে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে হারিয়ে অন্তত রুপোর পদক নিশ্চিত করেছেন তিনি। এবার তাঁর লক্ষ্য সোনার পদক জিতে দেশের সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যোগ করা।
গ্লাসগোয় চলতি আসরে এটি অঙ্কুশের টানা তৃতীয় জয়। সেশেলসের জেড মাইকককে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পরও তিনি একই আত্মবিশ্বাস ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হলেও পরিকল্পিত বক্সিং করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন ভারতীয় বক্সার।
লড়াইয়ের প্রথম রাউন্ড থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন অঙ্কুশ। নিখুঁত পাঞ্চ, দ্রুত মুভমেন্ট এবং ধারাবাহিক কম্বিনেশনের সামনে বারবার পিছিয়ে পড়তে বাধ্য হন ওফোরি। পাঁচ বিচারকই প্রথম রাউন্ডে অঙ্কুশকেই এগিয়ে রাখেন।
তীয় রাউন্ডে কানাডার বক্সার আক্রমণের তীব্রতা বাড়ানোর চেষ্টা করলেও অঙ্কুশ শান্ত থেকে পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। শক্তিশালী রক্ষণভাগের পাশাপাশি সময়মতো নির্ভুল পাঞ্চে তিনি প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। এই রাউন্ডে অঙ্কুশের মাথার পিছনে আঘাত করায় ওফোরিকে সতর্কও করা হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডেও পাঁচ বিচারকের কাছ থেকে সর্বসম্মত সমর্থন পান ভারতীয় বক্সার।
শেষ রাউন্ডে ওফোরি সর্বশক্তি দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও অঙ্কুশ কোনও সুযোগ দেননি। দুর্দান্ত রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং কৌশলী বক্সিংয়ের মাধ্যমে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এর ফলে কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জন্য অন্তত আরও একটি রুপোর পদক নিশ্চিত হয়েছে।
এর আগে মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে জাম্বিয়ার ক্যাথরিন মওয়াপেকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন ভারতের প্রীতি পাওয়ার। অঙ্কুশের জয়ের পর ভারতের বক্সিং দলে এখন দুই বক্সার সোনার পদকের লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ফলে বক্সিংয়ে ভারতের পদকের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
এ দিকে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের মোট পদকসংখ্যা পৌঁছেছে ১৭-তে। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি সোনা, নয়টি রুপো এবং পাঁচটি ব্রোঞ্জ। ভারোত্তোলনে মীরাবাই চানু, শট পুটে শর্মিলা ধানখর এবং প্যারা অ্যাথলেটিক্সে দিলীপ গাভিত ভারতের হয়ে সোনা জিতেছেন। বিভিন্ন বিভাগে রুপো ও ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের পদক তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন একাধিক ক্রীড়াবিদ। এখন নজর অঙ্কুশ পঙ্ঘাল ও প্রীতি পাওয়ারের ফাইনালের দিকে, যেখানে দেশের জন্য সোনার পদক জয়ের লড়াইয়ে নামবেন তাঁরা।
