July 30, 2026
দেশ

অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি ‘ককরোচ’ প্রধানের, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি হামলার নেপথ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা

নয়াদিল্লি: নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি দায়ী করলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের সম্ভাজিনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ছাত্রদের উপর হামলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া সম্ভব নয়। একইসঙ্গে অমিত শাহের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।

দীপকের অভিযোগ, ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের সময় প্রতিবাদকারী ছাত্রদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়। তাঁর দাবি, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট ব্যবহার করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল।

লোকসভায় প্রশ্নফাঁস বিরোধী সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও একই অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি দাবি করেন, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ অমিত শাহের নির্দেশেই হয়েছিল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একই সুর শোনা গেল সিজেপি প্রধানের বক্তব্যে।

দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের জন্য বিদেশি অর্থসাহায্য পাওয়ার অভিযোগও উড়িয়ে দেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, “যদি সত্যিই বিদেশি অর্থ এসে থাকে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা আটকাতে না পারেন, তবে সেটাও তাঁর ব্যর্থতা। সে ক্ষেত্রেও তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।”

সিজেপি প্রধান আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অজুহাত তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, একটি ট্রাকে করে পাথর এবং একটি ভাঙাচোরা গাড়ি এনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয় এবং পরে তার দায় ছাত্রদের উপর চাপানো হয়।

প্রসঙ্গত, প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের জেরে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। সেই ঘটনার পর নিজের মহারাষ্ট্রের বাড়িতে ফিরে ধারাবাহিকভাবে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন অভিজিৎ দীপকে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও কটাক্ষ করে দীপকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের দায়িত্ব সামলানোর বদলে তিনি সমাজমাধ্যমে বেশি স্বচ্ছন্দ। আমার মনে হয়, তিনি ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেই বেশি সফল হবেন।”

এছাড়া তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও কেন্দ্র এবং বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই হয়রানি বন্ধ না হলে আগামী নির্বাচনে আন্দোলনকারীরাই তার জবাব দেবে। পাশাপাশি তিনি জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে আন্দোলন শেষ হয়ে যায়নি; প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবে সিজেপি।

Related posts

Leave a Comment