29.4 C
Kolkata
July 28, 2026
রাজ্য

সিকিম টানেল দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের পরিবারে ২১ লক্ষ টাকার সহায়তা

কর্মসংস্থানের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

জলপাইগুড়ি: সিকিমের টানেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার জলপাইগুড়ি সফরে মেটেলি ও নাগরাকাটা ব্লকের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে তিনি জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কেন্দ্র, রাজ্য এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির যৌথ উদ্যোগে ২১ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারের যোগ্য সদস্যদের চাকরির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনায় মৃত ১২ জনের মধ্যে ১১ জনই উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। সিকিম সরকারের পক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থা যৌথভাবে আরও ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেবে। সব মিলিয়ে প্রতিটি পরিবার ২১ লক্ষ টাকার সহায়তা পাবে বলে তিনি জানান।

শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে নিহত সাত জনের পরিবারের একজন করে সদস্যকে রাজ্য পুলিশের হোমগার্ড পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাঁরা নির্ধারিত শারীরিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টানেলের ভিতরে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই সিকিম সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। রাজ্য সরকারের তরফে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিক, উত্তরবঙ্গের পুলিশ আধিকারিক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। ভারতীয় সেনা, সিকিম প্রশাসন এবং বিশেষজ্ঞ দল যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে বলেও তিনি জানান।

এই ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের নতুন পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তাই ঝুঁকি নিয়ে ভিনরাজ্যে কাজ করতে না গিয়ে শ্রমিকদের পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, নতুন শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি সরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অসংগঠিত ও প্রান্তিক শ্রমিকদের জন্য বছরে ১২৫ দিনের নিশ্চিত কাজ এবং দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগস্ট মাস থেকে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। রেশন ব্যবস্থায় উন্নত মানের গম সরবরাহ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ১৬ আগস্ট ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকদের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। যাঁরা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নন, তাঁদের জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’র মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হবে।

উত্তরবঙ্গে শিল্পায়নের প্রসঙ্গেও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। মালদহে আম ও লিচু, উত্তরবঙ্গে আনারস, মাখানা, ভুট্টা এবং তুলাইপাঞ্জি চালকে কেন্দ্র করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ চা বাগানগুলিকে পুনরায় চালু করতে বিশেষ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই একাধিক বন্ধ চা বাগান ফের চালু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

Related posts

Leave a Comment