৩ হাজারের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের
২১ জুলাই উপলক্ষে বিড়লা তারা মণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলকে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ বুধবার একাধিক শর্তসাপেক্ষে এই অনুমতি দেয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়, জনসমাগমের সীমা এবং ট্রাফিক সংক্রান্ত নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। কোনও অবস্থাতেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি করা যাবে না।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত কর্মসূচি করা যাবে। বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে সম্পূর্ণ এলাকা খালি করে দিতে হবে। কর্মসূচিতে সর্বাধিক ৩ হাজার মানুষের উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা কোনওভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।
বিচারপতি আরও নির্দেশ দিয়েছেন, রাস্তার একদিকে সভা হবে এবং অন্যদিকে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থায় কোনও বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব আয়োজকদের উপরও বর্তাবে।
শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে জানান, বিড়লা তারা মণ্ডলের সামনে কর্মসূচি হলে হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই ওই স্থানে অনুমতি না দিয়ে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে কর্মসূচি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এর বিরোধিতা করে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৭ জুন এবং ১ জুলাই পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুমতির আবেদন জানানো হলেও তা মঞ্জুর করা হয়নি। আবেদনকারীদের দাবি, একই ধরনের অন্য কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হলেও তাঁদের ক্ষেত্রে বারবার আপত্তি তোলা হয়েছে।
শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, ব্রিগেডে কর্মসূচি করতে অসুবিধা কোথায়। কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ব্রিগেডে সভা করতে গেলে অন্তত এক লক্ষ মানুষের জমায়েত প্রয়োজন হয়। তিনি আদালতে আরও বলেন, তাঁদের কর্মসূচিতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে। তবে সেই দাবির বিরোধিতা করে রাজ্যের পক্ষ থেকে জনসমাগম সীমিত রাখার আর্জি জানানো হয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, বিড়লা তারা মণ্ডলের সামনের রাস্তা একমুখী হওয়ায় সীমিত জনসমাগমের মধ্যে কর্মসূচি আয়োজন করা সম্ভব। তবে নিরাপত্তা এবং যান চলাচলের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। সেই কারণেই তিন হাজার মানুষের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে ১৯৯৪ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেই ঘটনার আবেগ তিনি উপলব্ধি করেন। তবে বর্তমানে নির্বাচন ব্যবস্থা অনেকটাই বদলেছে এবং যে কোনও কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, ১৮ জুলাই বিকেল ৪টার মধ্যে কর্মসূচির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও মোবাইল নম্বর যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর কাছে জমা দিতে হবে। কর্মসূচি চলাকালীন ওই স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব থাকবে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে সহযোগিতা করা হয়।
সবশেষে আদালত রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি স্পষ্ট করে জানায়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার দায়িত্ব আয়োজক কমিটির।
