July 14, 2026
রাজ্য

আম্পান থেকে শিক্ষক নিয়োগ—প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে কমিশন গঠন, নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু

নবান্ন — পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। নবান্নের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত শিক্ষা, খাদ্য ও জোগান, ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা, পুরসভা, পঞ্চায়েত, আবাসন, মৎস্য-সহ একাধিক দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করবে এই কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুকে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘুষ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, আম্পান ত্রাণে অনিয়ম, ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি, মিড-ডে মিল প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দুর্নীতি, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষা ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা শিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি বেআইনি গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বেআইনি নির্মাণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করবে কমিশন।

কমিশনের তদন্ত শাখার নেতৃত্বে থাকবেন এক প্রবীণ আইপিএস আধিকারিক। প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবেন একজন আইএএস বা ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় থাকবেন পশ্চিমবঙ্গ রেভিনিউ সার্ভিসের এক আধিকারিক। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের অনুমতি নিয়ে অতিরিক্ত সদস্যও নিয়োগ করতে পারবে কমিশন।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে নয়ছয় হওয়া সরকারি অর্থ কীভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, সেই বিষয়েও সুপারিশ করবে কমিশন। তদন্ত চলাকালীন কমিশনের সিভিল কোর্টের সমান ক্ষমতা থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে তলব করে সাক্ষ্য গ্রহণ, নথি চাওয়া এবং তদন্ত পরিচালনা করতে পারবে। কোনও ঘটনায় ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট থানায় এফআইআর দায়েরের সুপারিশও করতে পারবে কমিশন। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অধীনে থাকা মামলাগুলি এই কমিশনের আওতার বাইরে থাকবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় তিনি জানিয়েছিলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের শুধু আইনের মুখোমুখি করা নয়, প্রয়োজনে তাঁদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করে নিলামের ব্যবস্থা করবে সরকার। সেই ঘোষণার পর এবার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিশন গঠনকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment