July 12, 2026
রাজ্য

বারুইপুর গণপিটুনি কাণ্ডে আরও দুই গ্রেফতার, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত

বারুইপুর — দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে গণপিটুনিতে ৩৫ বছরের যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বারুইপুর সফর এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তার পর তদন্তে গতি এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর প্রথমে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে শুক্রবার রাতে আরও তিন জনকে ধরা হয়। শনিবার ফের দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত সাত জনের নাম ফারুক সর্দার, রাজেশ সর্দার, শরিফুল মল্লিক, সাবিউদ্দীন বৈদ্য, ফরিদ শেখ, আবু সিদ্দিক সর্দার এবং শামিম আলি খান।

তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বেআইনি জমায়েত, অশান্তি সৃষ্টি, সরকারি কর্মীর কাজে বাধা, ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা এবং গণপিটুনির মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনায় আরও কয়েক জনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং গ্রেফতারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

শনিবার বারুইপুরে গিয়ে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিহতের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। সূর্যপুরে নতুন উদ্বোধন হওয়া পুলিশ ফাঁড়িতেই তাঁর নিয়োগ হয়েছে।

পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ ছিলেন। তাঁকে নাম-পরিচয় দেখে নিশানা করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। শুভেন্দুর অভিযোগ, ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছিল। ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক উস্কানির অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ঘটনার ভিডিও ফুটেজে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিহতের পরিবারের দায়িত্ব সরকার নিয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁদের বাড়ি মেরামতের কাজও করা হয়েছে।

এদিন সূর্যপুরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে গণধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ, পথ অবরোধ এবং রেল অবরোধেরও ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সেই সময় সন্দেহের বশে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

Related posts

Leave a Comment