বকখালি: দিঘার শংকরপুর বন্দর থেকে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ‘মা কালী’ ট্রলারটি অবশেষে উদ্ধার হল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে চুলকাঠির জঙ্গলের কাছে বাঘেরচরে উলটে থাকা অবস্থায় ট্রলারটির সন্ধান মেলে। ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ৫ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। আরও অন্তত ১০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত ২ জুলাই দিঘার শংকরপুর বন্দর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ‘মা কালী’ ট্রলারটি। ৫ জুলাইয়ের পর থেকে ট্রলারের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপরই পুলিশ, উপকূল রক্ষী বাহিনী, নৌবাহিনী, বনদপ্তর এবং মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান।
শনিবার থেকে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর চিত্রক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়। অভিযানে অংশ নেন রামগঙ্গা রেঞ্জের রেঞ্জার কবীর হোসেন, বনদপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা, সুন্দরবন পুলিশ, গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানা এবং উপকূল রক্ষী বাহিনীর সদস্যরা।
রবিবার বাঘেরচরের কাছে উলটে থাকা অবস্থায় ট্রলারটির খোঁজ মেলে। পরে যৌথ অভিযানে সেটিকে উদ্ধার করে পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরের সীতারামপুর ঘাটে নিয়ে আসা হয়। সেখানে ট্রলারের ভিতরে তল্লাশি চালিয়ে একে একে ৫ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা হয়। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, একজনের দেহ ট্রলারের ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে ছিল।
প্রশাসনের আশঙ্কা, নিখোঁজ আরও কয়েকজন মৎস্যজীবী ট্রলারের ভিতরেই আটকে থাকতে পারেন। সেই কারণে ট্রলারের ভিতরে জমে থাকা জল পাম্পের সাহায্যে বের করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জল সম্পূর্ণ সরানোর পরই ভিতরে আরও কেউ রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
previous post
