29.4 C
Kolkata
July 12, 2026
রাজ্য

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়ে বড় ইঙ্গিত শুভেন্দুর, ‘প্রার্থী দেওয়ার লোকও পাবে না তৃণমূল’

মেচেদা — নন্দীগ্রাম বিধানসভার সম্ভাব্য উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। সেই আবহেই পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদায় দলীয় সাংগঠনিক বৈঠক থেকে বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগামী দু’মাসের মধ্যেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, তা এখনই প্রকাশ করতে চাননি তিনি। একইসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবির প্রার্থী দেওয়ার মতো লোকও খুঁজে পাবে না।

রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদায় জেলার ত্রিস্তর পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতৃত্বকে নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে বুথস্তরের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, জনসংযোগ বাড়ানো এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

সাংগঠনিক বৈঠকে নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘নন্দীগ্রাম নিয়ে এখনই বেশি কিছু বলছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, আগামী দু’মাসের মধ্যেই উপনির্বাচন হতে পারে। আমাদের প্রার্থী কে হবেন, সেটা সময়মতো জানানো হবে।’

এরপরই তৃণমূলকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আমাদের সমর্থনে ৫৬ শতাংশ ভোট রয়েছে। আগামী দিনে তা ৭০ শতাংশে পৌঁছবে। পরিস্থিতি এমন হবে যে, কালীঘাট তৃণমূল হোক বা নতুন তৃণমূল— কেউই ভোটে দাঁড় করানোর মতো প্রার্থী খুঁজে পাবে না। আগে ওরা প্রার্থী দিক, তারপর আমরা আমাদের কথা বলব।’

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও নিশানা করেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের সংগঠনিক ভিত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘এতদিন দু’টি জিনিসের উপর ভর করে তৃণমূল রাজনীতি করত— পুলিশ প্রশাসন এবং আই-প্যাক। এখন পুলিশের সেই দাপট নেই, আর আই-প্যাকও রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিন্ডিকেট রাজ শেষ হয়েছে, তোলাবাজি বন্ধ হয়েছে। বাংলায় পরিবর্তনের শুরু হয়েছে। মানুষ আরও কিছুটা সময় দিন, উন্নয়নের ফল সবাই দেখতে পাবেন।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, মন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা, বিধায়ক অশোক দিন্দা, বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী, সিন্টু সেনাপতি, নির্মল খাঁড়া, সুভাষচন্দ্র পাঁজা, প্রদীপ বিজলী-সহ জেলার একাধিক বিজেপি নেতা।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম— দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক প্রস্তুতি জোরদার করছে বিজেপি।

Related posts

Leave a Comment