July 11, 2026
কলকাতা

দল নয়, সরকারই শেষ কথা! শিল্পমঞ্চ থেকে তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

কলকাতা: নতুন শিল্পায়নের পথে পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে দল ও সরকারের ভূমিকা স্পষ্ট করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার লাক্স কোজির দ্বিতীয় উৎপাদন ইউনিটের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে তিনি বলেন, নতুন সরকারে দল নয়, সরকারের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। একই সঙ্গে শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে আর তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের পরিবেশ থাকবে না।

শিল্পপতিদের উদ্দেশে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য এখন অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন দলের পতাকা কিংবা ট্রেড ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। শ্রমিক ও শিল্পপতিদের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রেখে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিকেই সরকার জোর দেবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতের মতো লাল ফিতের জট, মাশোহারা, মিথ্যা মামলা বা শিল্পাঞ্চলে রাজনৈতিক দখলদারির সংস্কৃতি আর চলবে না। বিনিয়োগকারীরা যাতে নির্ভয়ে শিল্প স্থাপন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গকে আবার দেশের অন্যতম শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

রাজ্যের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানান, অশোকনগরের তেলক্ষেত্রে শিগগিরই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা এবং রানাঘাটে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত ভবিষ্যতের শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, ডেটা সেন্টার এবং উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত খুলবে।

সিঙ্গুরের ইমিটেশন জুয়েলারি শিল্পের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এই শিল্পকে আরও রপ্তানিমুখী করতে সেখানে একটি আধুনিক জুয়েলারি পার্ক বা বিশেষ শিল্প হাব গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীর কাছে আবেদনও জানান তিনি।

রাজ্যে নতুন শিল্পনীতি ও সমন্বিত ভূমি নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী ভারতীয়রাও পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাবেন। টাটা, বাটা, রিলায়েন্স-সহ বড় শিল্পগোষ্ঠীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিও ভবিষ্যতে বাংলায় শিল্প স্থাপন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, আগামী এক বছরের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মতো শিল্পোন্নত রাজ্যগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের শীর্ষ শিল্প রাজ্যে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।

Related posts

Leave a Comment