27.1 C
Kolkata
July 7, 2026
Featured

রাজ্যের পাঠ্যক্রমে যুক্ত হবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদান

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

একাধিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

কলকাতা, ৭ জুলাই— ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভবানীপুরের ঐতিহ্যবাহী মিত্র ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষাক্ষেত্র ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত রাজ্যের পাঠ্যক্রমে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, কর্ম এবং দেশগঠনে তাঁর অবদান অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস এবং জাতীয় চেতনা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, পাঠ্যপুস্তকে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ গঠনে ঐতিহাসিক ভূমিকা, রাষ্ট্রপ্রেম, অখণ্ড ভারতের ভাবনা, আইনসভায় দেওয়া তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে শিল্পায়নে তাঁর অবদান এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর ভূমিকার বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।

তিনি বলেন, ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে এই ইতিহাস নিয়ে নিয়মিত চর্চা হওয়াও সমান জরুরি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো স্বামী বিবেকানন্দও ‘ভারত মাতা’-কে আরাধ্য বলে মনে করতেন। দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে তুলতে মিত্র ইনস্টিটিউশনের এক হাজার ছাত্রছাত্রীকে ভগিনী নিবেদিতার লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য মাস্টার এজ আই স হিম’ উপহার দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের প্রজন্ম যদি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে চায়, তাহলে তাদের একটাই মন্ত্র গ্রহণ করতে হবে— সবার আগে দেশ।’

মিত্র ইনস্টিটিউশনের সঙ্গে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি ১৯০৬ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পরে ১৯২৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সেই ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে নিজের এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে বিদ্যালয়ের সংস্কারকাজের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে প্রকৌশলীদের দিয়ে সংস্কার পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে শিক্ষাদপ্তরকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের ‘পিএম শ্রী’ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি অটল বিহারী বাজপেয়ীর নামে কেন্দ্রীয় শিক্ষাপ্রকল্পের সঙ্গে বিদ্যালয়টিকে যুক্ত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্মারক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছরে এই খাতে ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। সেই তহবিল থেকে মিত্র ইনস্টিটিউশনের উন্নয়নে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া যায় কি না, তাও খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment