দিল্লি— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন দিল্লির দিকে। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিশ্চয়তা এবং চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ভারত ও জাপান অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার পথ খুঁজতে চলেছে।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, এবারের বৈঠকে উচ্চগতির রেল বা পরিকাঠামো প্রকল্পের বদলে গুরুত্ব পাবে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পরিচ্ছন্ন শক্তি, ডিজিটাল পরিকাঠামো, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং ইয়েন-রুপি বাণিজ্য ব্যবস্থার মতো কৌশলগত বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা এখন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা, উন্নত প্রযুক্তিতে যৌথ বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা দুই দেশের কাছেই অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
প্রাক্তন কূটনীতিক পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মতে, প্রয়াত শিনজো আবের নীতির ধারাবাহিকতায় সানায়ে তাকাইচিও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী। দুই দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।
বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর ভারত ও জাপান উভয়েই বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সহযোগিতা এবং বাজার সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা করতে পারে।
এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মুক্ত ও নিরাপদ নৌপথ, প্রতিরক্ষা উৎপাদনে যৌথ উদ্যোগ এবং ‘কোয়াড’-এর ভবিষ্যৎ ভূমিকাও আলোচনায় উঠে আসতে পারে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক ভারত-জাপান সম্পর্ককে আরও কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
