সংবাদ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় অনগ্রসর শ্রেণীর সংরক্ষণ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল সোমবার পাশ হয়েছে। বিল দুটি পাশ হওয়ার ফলে রাজ্যে ওবিসি তালিকা তৈরির পদ্ধতি এবং অনগ্রসর শ্রেণী কমিশনের ক্ষমতায় একাধিক পরিবর্তনের পথ খুলে গেল। সরকারের দাবি, নতুন আইনের মাধ্যমে সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আইনসম্মত করা হবে। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই সংশোধনের ফলে পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত বহু সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ, গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বিধানসভায় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (শিডিউল কাস্ট ও শিডিউল ট্রাইব ব্যতীত) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকান্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্টস (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ এবং ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ পেশ করেন। আলোচনা শেষে বিল দুটি পাশ হয়।
বিধানসভার আলোচনায় বিজেপি বিধায়কেরা দাবি করেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি ওবিসি তালিকায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে কিছু সম্প্রদায়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, পূর্ববর্তী সরকার সামাজিক ও শিক্ষাগত অনগ্রসরতার ভিত্তিতেই তালিকা প্রস্তুত করেছিল এবং নতুন সংশোধনী সেই কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে।
বর্তমানে ওবিসি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ‘ক্যাটেগরি এ’-তে ৬৫টি এবং ‘ক্যাটেগরি বি’-তে ৭৮টি জনগোষ্ঠী রয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও নাগরিক বা সম্প্রদায় ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। সেই আবেদন পরীক্ষা করে অনগ্রসর শ্রেণী কমিশন রাজ্য সরকারকে সুপারিশ করবে। একই সঙ্গে কোনও সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি, বাদ দেওয়া বা অতিরিক্ত অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি জানানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই ধরনের ক্ষেত্রে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
নতুন আইনে আরও বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার অনগ্রসর শ্রেণী কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে ওবিসি সংরক্ষণের শতাংশ নির্ধারণ করবে। সময়ে সময়ে সংরক্ষণের হার পুনর্বিবেচনা করা গেলেও মোট সংরক্ষণ ৫০ শতাংশের বেশি হবে না। পাশাপাশি অনগ্রসরতার মাত্রার ভিত্তিতে ওবিসি সম্প্রদায়গুলিকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করার ক্ষমতাও রাজ্য সরকার পাবে, তবে সেই ক্ষেত্রেও কমিশনের মতামত বাধ্যতামূলক হবে।
সংশোধনী বিলে অনগ্রসর শ্রেণী কমিশনের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিশনের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছরই বহাল থাকছে। তবে সদস্য-সচিবের মেয়াদ রাজ্য সরকার নির্ধারণ করবে।
সরকারের দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে সংরক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আরও সুসংহত ও আইনি ভিত্তিসম্পন্ন হবে। অন্যদিকে বিরোধীদের মতে, এই সংশোধনের ফলে পূর্ববর্তী আইনের অধীনে তৈরি ওবিসি তালিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে রাজনৈতিক ও আইনি স্তরে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
