ভারতের টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হল জম্মু ও কাশ্মীরের পেসার অকিব নবি এবং মধ্যপ্রদেশের অলরাউন্ডার সারাংশ জৈনের। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজের জন্য প্রথম বার ভারতীয় দলে জায়গা পেলেন দু’জনেই। চোটের কারণে জসপ্রীত বুমরাহ সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ায় তাঁর পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে ২৯ বছরের অকিবকে। অন্য দিকে, দীর্ঘ দিন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন ৩৩ বছরের সারাংশ।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে শনিবার গল-এ। অকিব গত মরসুমে জম্মু ও কাশ্মীরের ঐতিহাসিক প্রথম রঞ্জি ট্রফি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। বেশ কিছু দিন ধরেই জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বুমরাহের চোট তাঁর সামনে জাতীয় দলের দরজা খুলে দিল।
বিসিসিআইয়ের প্রকাশিত ভিডিয়োয় সারাংশকে অকিব বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে ভাল খেললে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে তাঁর বিশ্বাস ছিল। তাঁর কথায়, ‘‘আমার প্রত্যাশা ছিল। তবে ক্রিকেটারের কাজ হল নিজের পারফরম্যান্সে মন দেওয়া। আমি জানতাম, আজ না হলে কাল ডাক আসবেই।’’ জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার খবর শুনে পরিবার অত্যন্ত খুশি বলেও জানান তিনি।
সারাংশের জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ। ২০১৪-১৫ মরসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। ২০২১-২২ মরসুমে মুম্বইকে হারিয়ে রঞ্জি ট্রফি জেতা মধ্যপ্রদেশ দলেরও সদস্য ছিলেন তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্ন থেকে সরে যাননি এই অলরাউন্ডার।
সারাংশ বলেন, ‘‘টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্য প্রয়োজন। ভারতের হয়ে টেস্ট খেলতে চাইলেও সেই ধৈর্য রাখতে হয়। ২০১৪-১৫ মরসুমে রঞ্জি অভিষেকের পর থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়েছি। অনেক পরিশ্রম ও ত্যাগ রয়েছে এর পিছনে। কিন্তু বিশ্বাস ছিল, এক দিন ভারতের হয়ে খেলব।’’
জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার ঘটনাও দু’জনের কাছে ছিল বেশ নাটকীয়। সারাংশ জানান, মন্দিরে যাওয়ার পথে ফোন ও মেসেজ দেখে জানতে পারেন তাঁর নির্বাচনের খবর। অন্য দিকে, বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে শিবিরে যোগ দিতে বিমান ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অকিব। বিমানবন্দরে থাকতেই ফোন করে তাঁকে জানানো হয়, বেঙ্গালুরু নয়, তাঁকে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা হতে হবে।
অকিব বলেন, ‘‘প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। দল আগেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল। আমি বেঙ্গালুরুর শিবিরে যাওয়ার জন্য তৈরি ছিলাম। হঠাৎ জানানো হল, আমি নির্বাচিত হয়েছি এবং শ্রীলঙ্কা যেতে হবে।’’
ভারতীয় দলের সাজঘরে মানিয়ে নিতেও বিশেষ সমস্যা হয়নি সারাংশের। তাঁর দাবি, দলের ৭০-৮০ শতাংশ ক্রিকেটারের সঙ্গে আগে থেকেই তাঁর পরিচয় রয়েছে। ফলে নতুন পরিবেশে দ্রুতই মানিয়ে নিতে পেরেছেন তিনি।
