কলকাতা, ২৬ জুন: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে ১৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিধানসভায় তিনি দাবি করেন, তৃণমূল আমলে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণে ছাড়পত্র দেওয়ার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, কলকাতাকে ‘সিটি অফ জয়’ থেকে ‘মৃত্যুপুরী’তে পরিণত করা হয়েছে। ভেঙে পড়া গুদামের নকশায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি এবং জানান, ঘটনায় কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কলকাতা পুরসভার পাশাপাশি রাজারহাট-নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, বিষ্ণুপুর, সোনারপুর ও বারুইপুর এলাকায় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত নির্মাণকাজ আগামী চার সপ্তাহ বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে অনুমোদিত সমস্ত নির্মাণ-নকশার অডিট করা হবে। এজন্য অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পাণ্ডের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষিত কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।
বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, ত্রুটিপূর্ণ নকশা থাকা সত্ত্বেও কলকাতা পুরসভা নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট নথিতে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। যদিও ফিরহাদ হাকিম পরে জানান, বিল্ডিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই অনুমোদনে স্বাক্ষর করা হয় এবং প্রযুক্তিগত বিষয়ে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনে অনিয়ম চলেছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পূর্বতন সরকারের আমলে বিপর্যয় মোকাবিলার প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতিও কেনা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় সেনা আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে উদ্ধারকাজে যোগ দেওয়ায় বহু শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য ২০০ সদস্যের একটি বিশেষ প্রশিক্ষিত উদ্ধার বাহিনী গঠন করা হবে।
