আজমেঢ় — নিট পুনঃপরীক্ষা ঘিরে নতুন করে প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে রাজস্থানে। পরীক্ষার আগের দিন এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ভিডিও কলে পরীক্ষার্থীদের কাছে নিটের আসল প্রশ্নপত্র রয়েছে বলে দাবি করে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজস্থানের আজমেঢ়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিএভি কলেজের ছাত্র সংসদের সভাপতি কৃষ্ণ সিং ঠাকুর এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে। কৃষ্ণ জানিয়েছেন, তাঁর কলেজের এক প্রথম বর্ষের ছাত্রী প্রথম এই প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারে। পরে ওই ছাত্রী বিষয়টি তাঁকে জানায়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কৃষ্ণ নিজেই ওই নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন। তখন ওই ব্যক্তি দাবি করে যে তার কাছে আসন্ন নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র রয়েছে এবং সেটি পেতে হলে ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। শুধু মৌখিক দাবি নয়, টাকা পাঠানোর জন্য একটি কিউআর কোডও পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে একটি ভিডিও কল। অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও কলে ওই ব্যক্তি পরীক্ষার্থীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে এবং প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার আশ্বাস দেয়। এর বিনিময়ে নগদ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পরই প্রশাসনের নজরে আনা হয়।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এর পিছনে কোনও সংঘবদ্ধ প্রশ্নফাঁস চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না। একইসঙ্গে এটাও তদন্ত করা হচ্ছে যে, আদৌ কোনও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল নাকি পরীক্ষার্থীদের ভয় ও উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে অর্থ হাতানোর উদ্দেশ্যে এই প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের জেরে সেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরে পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই কারণেই এ বারের পরীক্ষাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কড়া।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে বায়োমেট্রিক যাচাই, আধার তথ্য মিলিয়ে দেখা, সিসি ক্যামেরার নজরদারি এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের উপর নিষেধাজ্ঞাসহ একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছিল। তবু পরীক্ষার আগের দিন এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে।
আজমেঢ় পুলিশ ইতিমধ্যেই মোবাইল নম্বর, কিউআর কোড এবং ডিজিটাল লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের মতে, প্রাথমিকভাবে এটি প্রতারণার ঘটনা বলে মনে হলেও সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সর্বভারতীয় পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে।
