35.1 C
Kolkata
June 21, 2026
দেশ

নিট পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে বিমানবন্দরেই ৪৫ মিনিট অপেক্ষা মোদীর, পরীক্ষা শুরুর পর দিল্লির পথে কনভয়

দিল্লি — আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচি শেষ করে কলকাতা থেকে দিল্লি ফিরলেও বিমান থেকে নেমেই রওনা দেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বরং প্রায় ৪৫ মিনিট দিল্লি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করার পর নিজের বাসভবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। নেপথ্যে ছিল লক্ষ লক্ষ নিট পরীক্ষার্থীর স্বার্থ।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সারা দেশে মেডিক্যালে ভর্তির যোগ্যতা নির্ধারণকারী নিট পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর ২টো। সেই সময় দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের যাতায়াতের কারণে যাতে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় কোনও বিঘ্ন না ঘটে এবং পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছতে সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর সকাল ১১টা নাগাদ দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন মোদী। দুপুর প্রায় সওয়া ১টায় তাঁর বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে না এসে তিনি সেখানেই অবস্থান করেন।

আধিকারিকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী যখন কোনও রুট দিয়ে যাতায়াত করেন, তখন নিরাপত্তার কারণে ওই রাস্তাগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অস্থায়ী বিধিনিষেধও জারি করা হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই কারণেই পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কনভয় বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দুপুর ২টোয় নিট পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় তাঁর বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেয়। ফলে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে কোনও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়নি বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

এ বারের নিট পরীক্ষা ঘিরে বিশেষ সতর্কতা ছিল প্রশাসনের। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় সরকার সেই পরীক্ষা বাতিল করে দেয়। পরে পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই প্রেক্ষিতে রবিবারের পরীক্ষাকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

দেশজুড়ে প্রায় ২২ লক্ষ ৭৯ হাজার পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রশ্নফাঁস বা অনিয়ম ঠেকাতে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়। বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। আধার তথ্য যাচাইয়ের পরেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্ট ঘড়ি, ব্লুটুথ ডিভাইসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সারা দেশে প্রায় ২ লক্ষ কর্মী ও আধিকারিক পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন। ৬ হাজার ৬৬৯ জন পর্যবেক্ষক এবং ৬৭৪ জন সিটি কো-অর্ডিনেটর পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করায় বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।

Related posts

Leave a Comment