শিলিগুড়ি |২০ জুন: টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। বালাসন নদীর প্রবল জলের তোড়ে ভেঙে পড়েছে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু। এর জেরে সড়কপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শিলিগুড়ি ও মিরিকের যোগাযোগ। পাশাপাশি একাধিক জায়গায় ধস নামায় শিলিগুড়ি-দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
গত দু’দিন ধরে চলা বৃষ্টি শুক্রবার আরও তীব্র আকার নেয়। পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তরও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশে ধস নামায় দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির মধ্যে অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্মৃতি এখনও তাজা থাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে পাহাড়ে।
বৃষ্টির জেরে একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ে আটকে পড়া পর্যটকদের বিকল্প হিসেবে সুখিয়াপোখরি হয়ে শিলিগুড়িতে নামার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে সেই রাস্তার অবস্থাও উদ্বেগজনক বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আপাতত উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধসের কারণে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের টয়ট্রেন পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানিয়েছেন, “শুক্রবার সমস্ত টয়ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ধস সরাতে সময় লাগবে। তবে শনিবার থেকে দার্জিলিং-কার্শিয়াং রুটে পরিষেবা চালুর চেষ্টা করা হবে।”
পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং গোটা বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানানো হয়েছে। তিনি পর্যটকদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে নিরাপদ স্থানে থাকার আবেদন জানিয়েছেন।
