এভিয়ান: ইরানের সঙ্গে একটি নতুন সমঝোতা চুক্তির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের শেষে তিনি দাবি করেন, এই চুক্তির ফলে ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না, হরমুজ প্রণালী ফের সম্পূর্ণভাবে খুলে যাবে এবং পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বৃহত্তর কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হবে।
সম্মেলনের সমাপ্তি ভাষণে ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরান চুক্তির শর্ত না মানলে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পও খোলা থাকবে।
ট্রাম্পের কথায়, ‘রবিবার আমরা ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি, যা আমাদের নির্ধারিত সমস্ত লক্ষ্য পূরণ করেছে। এর মাধ্যমে বর্তমান সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে।’
মার্কিন প্রশাসনের তরফে পরে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র সংগ্রহ বা উন্নয়ন করবে না। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিশ্রুতি পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের বিষয়টি নির্ভর করবে। একই সঙ্গে ইরানের সমৃদ্ধ পরমাণু উপাদানের উপর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।
জি-৭ সম্মেলনে ভারতের ভূমিকার উল্লেখ
ট্রাম্প দাবি করেছেন, সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের নেতারা এই চুক্তিকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদী এখানে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমরা যে সমঝোতায় পৌঁছেছি, তাতে অনেকেই সন্তুষ্ট।’ এছাড়া সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং মিশরের নেতাদের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেছেন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পশ্চিম এশিয়ায় বৃহত্তর কূটনৈতিক সমঝোতার আশা
শুধু পরমাণু ইস্যু নয়, এই চুক্তিকে ভবিষ্যতের বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ার ভিত্তি হিসেবেও দেখছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, পশ্চিম এশিয়াজুড়ে নতুন কূটনৈতিক সমঝোতার পথ খুলে যেতে পারে।
বিশেষ করে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণ, লেবাননের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকে ভবিষ্যতের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
নেতানিয়াহুকে সংযমের বার্তা
লেবাননে সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকেও প্রকাশ্যে বার্তা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আরও সংযত পন্থা নেওয়া যেতে পারে। প্রতিবার হিজবুল্লার কোনও সদস্য কোনও ভবনে ঢুকলেই সেই ভবন ধ্বংস করার প্রয়োজন নেই।’
চিন ও রাশিয়ার ভূমিকায় প্রশংসা
চলমান সংঘাতের সময়ে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার জন্য চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশই পরিস্থিতি আরও জটিল না করে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে স্থিতিশীলতা ভারতের মতো বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের দাবি, প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণভাবে চালু হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমবে এবং জ্বালানি ব্যয়ও হ্রাস পাবে।
তবে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে কঠোর অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত না মানে, তাহলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
