এভিয়ান: জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে একাধিক বৈঠক ও কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার পর ফ্রান্স সফরের শেষ পর্বে প্যারিসের উদ্দেশে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্মেলন শেষে তিনি জানান, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা, নীতি নির্ধারণ এবং বিশ্বের সামগ্রিক সমৃদ্ধির জন্য গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ভারতের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জি-৭ সম্মেলনের বিভিন্ন আলোচনায় ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ মিলেছে। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থ রক্ষায় গ্লোবাল সাউথের ভূমিকার গুরুত্বও তিনি ব্যাখ্যা করেন। তাঁর দাবি, উপস্থিত বিশ্বনেতারা ভারতের মতামতকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
এভিয়ানে কর্মসূচি শেষ করার পর প্রধানমন্ত্রী এখন প্যারিসে যাবেন। সেখানে তাঁর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্মেলন ‘ভিভাটেক ২০২৬’-এ ভাষণ দেবেন তিনি। এছাড়াও ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে মতবিনিময় করবেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত নিজেকে গ্লোবাল সাউথের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি, ন্যায্য বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পক্ষে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে সওয়াল করছে ভারত। জি-৭ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকেও সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, প্যারিস পর্বের এই সফর ভারত ও ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এগিয়েছে। প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা, পরমাণু শক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়— একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। সেই সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভিভাটেক ২০২৬ মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অর্থনীতি এবং উদ্ভাবনী পরিকাঠামোর সাফল্য তুলে ধরবেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তাও দেবে।
