নন্দীগ্রাম— রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দিতে ‘জনকল্যাণ শিবির’ কর্মসূচির সূচনা করল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সোমবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। ১৫ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক ও পুরসভা এলাকায় মোট ১১০০টি শিবির আয়োজন করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, এই শিবিরের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মোট ৫৫টি প্রকল্পের সুবিধা এক ছাতার তলায় পাবেন সাধারণ মানুষ। নতুন আবেদন, নথি যাচাই, অভিযোগ জমা দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য জানার সুযোগ থাকবে এই শিবিরগুলিতে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের লক্ষ্য হল স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। তাঁর বক্তব্য, ‘প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছনোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনও মধ্যস্বত্বভোগী বা দুর্নীতির জায়গা থাকবে না।’
জনকল্যাণ শিবিরে অন্নপূর্ণা যোজনা, যুবশক্তি প্রকল্প, পিএম কিসান যোজনা, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতাসহ একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ বিভিন্ন সরকারি নথির সংশোধনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সমস্যার মুখে পড়া নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিক ও কর্মীরা সরাসরি আবেদনকারীদের সহায়তা করছেন।
নন্দীগ্রামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, চলতি বছরে রাজ্যে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ লাগানো হবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকেও জনকল্যাণ শিবিরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া তিনি জানান, ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পে কেন্দ্র ইতিমধ্যে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মোট বরাদ্দের পরিমাণ ৮৫০০ কোটি টাকা। একইসঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে ৭৯ লক্ষ মহিলাকে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। আবাস যোজনার সমীক্ষা ২০ জুলাই থেকে শুরু হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তবে শিবির ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় অব্যবস্থার অভিযোগও উঠেছে। উত্তরপাড়ায় পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, পুর কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই সাধারণ মানুষ সমস্যার মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে পুরুলিয়ার কয়েকটি শিবিরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও নির্দিষ্ট প্রকল্পের ফর্ম না পাওয়ার অভিযোগ করেন বহু মানুষ। অন্নপূর্ণা যোজনা ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবেদনকারীদের একাংশ।
