পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব মন্তব্য করলেন, ‘ভয় হারেছে, ভরসা জিতেছে’। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৬ সালের এই নির্বাচনে বড়সড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে এবং বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিজেপি ২৯৪টির মধ্যে ২০০-র বেশি আসন জিতেছে, যা বাংলার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
এই প্রেক্ষিতেই অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, মানুষের মধ্যে যে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ ছিল, তা এবার ভেঙে গেছে। তাঁর কথায়, এই ফলাফল শুধু রাজনৈতিক জয় নয়, বরং মানুষের আস্থার প্রতিফলন। তিনি এই সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্ব এবং সাধারণ ভোটারদের সমর্থনকে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন রাজ্যের শাসনকারী তৃণমূল কংগ্রেস এই নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে। বহু আসনে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সমীকরণও বদলে গিয়েছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরেও হার বড় বার্তা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল রাজ্যের ভোটারদের মানসিকতার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের একদলীয় প্রভাব ভেঙে নতুন বিকল্পের দিকে ঝুঁকেছে জনতা।
এদিকে নির্বাচনের পর কিছু এলাকায় উত্তেজনার খবরও সামনে এসেছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা নতুন সরকার গঠনের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
সব মিলিয়ে, অশ্বিনী বৈষ্ণবের ‘ভয় হারল, ভরসার জয়’ মন্তব্য এখন এই নির্বাচনের রাজনৈতিক সারমর্ম হিসেবেই উঠে আসছে।
