দার্জিলিং, ৩০ জুলাই — পাহাড়ের রাজনীতিতে ফের বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম)-এর নির্বাচিত ১১ জন গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) সদস্য একযোগে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় দার্জিলিং-কালিম্পংয়ের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ের রাজনীতিতে এটি অন্যতম বড় দলবদল।
বৃহস্পতিবার কালিম্পংয়ে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে বিজেপি বিধায়ক ভারত ছেত্রী এবং দার্জিলিং হিল বিজেপির সভাপতি সঞ্জীব লামার উপস্থিতিতে দলত্যাগী জিটিএ সদস্যদের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

বিজেপিতে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন সুমন গুরুং, কুমার শর্মা, রতন থাপা, নুরি শেরপা, মণিকুমার রাই, কমল সুব্বা, সন্দীপ ছেত্রী, সিনোরা নামচু, লাকপা নামগ্যাল ভুটিয়া, বিরে রাই এবং ধেন্দুপ পাখরিন।
দলবদলের পর জিটিএ সদস্য লাকপা নামগ্যাল ভুটিয়া বলেন, পাহাড়ের স্থায়ী উন্নয়ন এবং গোর্খা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের স্বার্থেই তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই লক্ষ্য পূরণে বিজেপিই সবচেয়ে সক্ষম।
অন্যদিকে, এই দলবদলকে কটাক্ষ করেছে বিজিপিএম। দলের মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, বিজেপি এতদিন জিটিএ-কে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অবৈধ বলে সমালোচনা করেছে। এখন সেই জিটিএ-র সদস্যদেরই দলে নেওয়া হচ্ছে, যা পাহাড়বাসীর সঙ্গে প্রতারণার সামিল।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জিটিএ নির্বাচনে ৪৫টির মধ্যে ২৭টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল অনীত থাপার নেতৃত্বাধীন বিজিপিএম। পরে নির্দল সদস্যদের সমর্থনে বোর্ডে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছিল দলটি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনীত থাপা-সহ একাধিক সদস্যের পদত্যাগের পর এবার ১১ জন নির্বাচিত সদস্যের বিজেপিতে যোগদানের ফলে বিজিপিএমের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন পাওয়ায় পাহাড়ে বিজেপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত হল। আগামী দিনে এই দলবদলের প্রভাব শুধু জিটিএ নয়, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও পড়তে পারে।
