কোচবিহার, ৭ জুন, ২০২৬ — সরকারি পরিষেবা পাইয়ে দেওয়া এবং চাকরির প্রতিশ্রুতির নামে টাকা তোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহার। রবিবার সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা রায় এবং কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। টাকা ফেরতের দাবিতে সরব হন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ‘চোর’ লেখা প্ল্যাকার্ড। পাশাপাশি ‘চোর চোর’ স্লোগানেও সরব হতে দেখা যায় তাঁদের। অভিযোগ, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং প্রশাসনিক পরিষেবার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন আগে চাকরি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার আশায় টাকা জমা দিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। চাকরি যেমন মেলেনি, তেমনই ফেরত মেলেনি টাকাও। সেই ক্ষোভ থেকেই এ দিন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে শামিল হন সাধারণ মানুষ।
বিক্ষোভ চলাকালীন অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান তোলা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছর কেটে গেলেও কোনও ফল মেলেনি।
এক বিক্ষোভকারীর দাবি, ‘চাকরি হবে বলে টাকা নেওয়া হয়েছিল। এখন চাকরি নেই, টাকাও ফেরত নেই। তাই আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা ফেরতের দাবি জানাচ্ছি।’
শুধু অর্থ নেওয়ার অভিযোগই নয়, বিক্ষোভকারীদের একাংশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব খাটানো এবং ভয় দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন। তাঁদের দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে দ্রুত অর্থ ফেরত দেওয়া হোক।
বিক্ষোভের জেরে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়নি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখে পুলিশ।
তবে এই অভিযোগ প্রসঙ্গে সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বা কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অতীতের নানা অভিযোগ সামনে আসছে। কোচবিহারের এই ঘটনাও সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
