ক্যানিং, ৭ জুন, ২০২৬ — দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে মাতলা নদীর চরে গড়ে ওঠা ‘চাঁদমুনি সেবাশ্রম’কে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিজেপির অভিযোগ, সরকারি জমি দখল করে বেআইনি ভাবে এই বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বৃদ্ধাশ্রমের আড়ালে সেখানে অন্য ধরনের কার্যকলাপও চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে তারা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের তরফে আশ্রম কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মহকুমা শাসকের নির্দেশে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ জুন এই বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিতর্কিত এই বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস। স্থানীয় সূত্রে খবর, বর্তমানে ‘চাঁদমুনি সেবাশ্রম’-এ ২২ জন আবাসিক রয়েছেন। আশ্রম পরিচালনার জন্য সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এবং একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক আর্থিক সহায়তা করেন বলেও দাবি আশ্রম কর্তৃপক্ষের।
তবে বিজেপির অভিযোগ, বৃদ্ধাশ্রমের নামে সেখানে অন্য উদ্দেশ্যে পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, কয়েক জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে রেখে মূলত অন্য ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মাতলা নদীর চর দখল করে এই পরিকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নদীর চরের আরও কিছু অংশ বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। তার পরেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস। তাঁর দাবি, সরকারি নিয়ম মেনেই আশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি তাঁর কাছে রয়েছে।
পরেশরামের কথায়, ‘এই আশ্রম প্রতিষ্ঠার সময় প্রশাসনের সব স্তরের অনুমতি ও সহযোগিতা পেয়েছি। সমস্ত কাজ আইন মেনেই করা হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুধু এই বৃদ্ধাশ্রম নয়, মাতলা নদীর চরের উল্টো দিকে গড়ে ওঠা আরও কয়েকটি নির্মাণকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে ১৮ জুনের শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও মাতলা নদীর চর দখল করে নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগ নিয়েও প্রশাসনিক তদন্ত চলছে।
এ বার ‘চাঁদমুনি সেবাশ্রম’কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।
