নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি— ‘বারবার বলেছিলাম, সিকিমে যাস না। অন্য কোথাও কাজে যা। কিন্তু আমার কথা শুনল না।’ চোখের জল মুছতে মুছতে কথাগুলো বলছিলেন নাগরাকাটা ব্লকের সুখানী বস্তির বাসিন্দা পার্বতী সাওতাল। সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকায় তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ছেলে অর্জুন সাওতালের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।
রিবারের সদস্যদের কথায়, কয়েক দিন ধরেই বন্ধুদের সঙ্গে সিকিমে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অর্জুন। বিষয়টি জানার পর থেকেই তাঁকে অন্যত্র কাজে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন মা। পাহাড়ে প্রায়ই ধস নামে, সেই আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মায়ের আশঙ্কাই সত্যি হল।
পার্বতী সাওতাল বলেন, ‘আমি ওকে অনেকবার বলেছিলাম, সিকিমে যাস না। সেখানে মাঝেমধ্যেই ধস নামে। কিন্তু আমার কোনও কথাই শুনল না। এখন আর আমার ছেলেটাকে ফিরে পাব না।’
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্জুন কীভাবে ওই সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পে কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাঁদের স্পষ্ট কোনও ধারণা ছিল না। পরিবারের আশা ছিল, কাজ শেষে ছেলে বাড়ি ফিরবে, সবার জন্য কিছু নিয়ে আসবে। কিন্তু সেই অপেক্ষা আজ পরিণত হয়েছে অসীম শোকে।
গত সোমবার সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকায় তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মিথেন গ্যাস লিক হওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে এবং সুড়ঙ্গের একটি অংশ ধসে পড়ে এতে একাধিক শ্রমিক ভিতরে আটকে পড়েন।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের মধ্যে ১১ জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে জলপাইগুড়ির মেটেলির ছয়জন এবং নাগরাকাটার তিনজন রয়েছেন। অধিকাংশ পরিবারই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। ফলে এই দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
