আউশগ্রাম — একসময় সংসার চালাতে পরিচারিকার কাজ করতেন। অনটনের সঙ্গে লড়াই ছিল নিত্যসঙ্গী। সেই কলিতা মাঝিই আজ রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য। বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আবেগে ভাসছে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম।
রবিবার পর্যন্তও নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনও ধারণা ছিল না কলিতা মাঝির। তাঁর কথায়, একটি ফোন আসে কলকাতায় যাওয়ার জন্য। কেন যেতে হবে, সেই কারণও প্রথমে জানানো হয়নি। পরে সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেই জানতে পারেন, তাঁকে মন্ত্রী করা হচ্ছে।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কলিতা মাঝি বলেন, ‘‘আমাকে যখন নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছিল, তখনই মনে হয়েছিল অনেক বড় দায়িত্ব পেয়েছি। কোনওদিন ভাবিনি মন্ত্রী হব। এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। মানুষের জন্য কাজ করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’’
আউশগ্রামের এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে কলিতা মাঝির জীবন সংগ্রামের গল্প আজ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা। অল্প বয়সেই বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পরও আর্থিক অনটন তাঁর জীবন ছেড়ে যায়নি। সংসারের খরচ চালাতে পরিচারিকার কাজ শুরু করেন। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো কখনও বন্ধ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, কোনও দরিদ্র পরিবার বিপদে পড়লে সবার আগে ছুটে যেতেন কলিতা। বিশেষ করে মহিলাদের নানা সমস্যায় পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর অভ্যাস। সেই সমাজসেবামূলক কাজ থেকেই ধীরে ধীরে রাজনীতির সঙ্গে পরিচয়।
স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের কথায়, প্রতিদিন সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে এসে সাধারণ মানুষের কথা শুনতেন কলিতা। নেতাদের পরামর্শ নিতেন এবং এলাকার সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করতেন। সেখান থেকেই রাজনৈতিক পথচলার শুরু।
যখন তিনি বিজেপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন, তখন পশ্চিমবঙ্গে দলটি এখনও সংগঠন বিস্তারের লড়াইয়ে ব্যস্ত। সেই সময়ে প্রকাশ্যে বিজেপি করার সাহসও অনেকের ছিল না। তবুও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন কলিতা মাঝি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে সেবার জয় আসেনি। পরাজয়ের পরও রাজনীতি এবং মানুষের পাশে থাকার কাজ ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের নির্বাচনে আউশগ্রাম থেকে জয়ী হয়ে বিধানসভায় পৌঁছন। আর এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন তিনি।
মন্ত্রী হওয়ার পরও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আগের মতোই যোগাযোগ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কলিতা মাঝি। তাঁর কথায়, ‘‘মানুষের পাশে থাকলে সাফল্য একদিন না একদিন আসবেই। মন্ত্রী হওয়ার পরও মানুষ আমাকে আগের মতোই পাবে। তাঁদের সমস্যা শুনব, সমাধানের চেষ্টা করব।’’
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাধারণ পরিবারের এক সংগ্রামী মহিলার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া বিজেপির সামাজিক প্রতিনিধিত্বের বার্তাকেই আরও শক্তিশালী করল।
