32 C
Kolkata
June 1, 2026
রাজ্য

লখনউয়ে তরুণী ইনফ্লুয়েন্সারের রহস্যমৃত্যু ঘিরে তোলপাড়

লখনউ: লখনউয়ে স্বামীর বাড়িতে এক তরুণী সমাজমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সারের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে নিয়মিত হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছিল তাঁকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে খুন করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনায় স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে পণজনিত মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম মানসি। কানপুরের বাসিন্দা মানসির বিয়ে হয়েছিল ২০২৪ সালে সাগর রাজপুতের সঙ্গে। সমাজমাধ্যমে দু’জনেই সক্রিয় ছিলেন। সাগর রাজপুতেরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অনুসারী রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় নগদ অর্থ, গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী এবং মূল্যবান উপহার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও পাত্রপক্ষ সন্তুষ্ট হয়নি। বরং বিয়ের পর থেকেই আরও পণের দাবি শুরু হয়। পরিবারের দাবি, একটি গাড়ির জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পণের দাবি পূরণ না হওয়ায় মানসিকে নিয়মিত কটূক্তি করা হত। তাঁকে মানসিকভাবে অপমান করা হত এবং শারীরিক হেনস্থারও শিকার হতে হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যদের কাছে একাধিকবার নিজের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন মানসি।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তুলতে মানসির আত্মীয়রা একাধিকবার লখনউয়ে গিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

শনিবার আচমকাই মানসির মৃত্যুর খবর পৌঁছয় তাঁর পরিবারের কাছে। প্রথমে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে জানানো হলেও সেই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ পরিজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে খুনের পর ঘটনাস্থল এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে তা আত্মহত্যা বলে মনে হয়।

মৃতার পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্বামী সাগর রাজপুত, শ্বশুর রাজেশ, দেওর অনু, দুই ননদ বরখা ও চাঁদনি এবং পিসি-শাশুড়ি আশা-সহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে পণজনিত মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সাগর রাজপুতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগোবে।

এই ঘটনা ফের দেশে পণ-সংক্রান্ত অপরাধের ভয়াবহতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জাতীয় অপরাধ নথি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে ৫,৭৩৭টি পণজনিত মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৬ জন মহিলার মৃত্যু হয়েছে পণ-সংক্রান্ত কারণে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি পণজনিত মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। সেখানে এমন মৃত্যুর সংখ্যা ২,০৩৮। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিহার, যেখানে ১,০৭৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং পশ্চিমবঙ্গেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এমন ঘটনার রেকর্ড রয়েছে।

আইন কঠোর হওয়া সত্ত্বেও পণ-সংক্রান্ত অপরাধ রুখতে এখনও যে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, এই ঘটনা ফের সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।

Related posts

Leave a Comment