বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী স্টিভেন পাওলস রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার টার্ককে চিঠি লিখে ২০২৪ সালের বাংলাদেশ আন্দোলন সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, রিপোর্টে বহু “ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য” রয়েছে।
“Human Rights Violations and Abuses related to the Protests of July and August 2024 in Bangladesh” শীর্ষক রিপোর্টটি ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতর (OHCHR)। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টের বিক্ষোভে ৪৬ দিনের মধ্যে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন। রিপোর্টে আরও বলা হয়, নিহতদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা যান।
তবে শেখ হাসিনার আইনজীবীর দাবি, মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারি নথিতেই নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ বলে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে উল্লেখিত সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। পাওলসের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে “ভুল ও উস্কানিমূলক তথ্য” ছড়িয়েছে, যাতে হাসিনা সরকারের পতনকে বৈধতা দেওয়া যায়।
২৮ মে লেখা চিঠিতে পাওলস বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের একটি রিপোর্ট সত্য থেকে এত দূরে পৌঁছেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, OHCHR-এর তদন্তকারী দল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবমুক্ত ছিল না। পাশাপাশি, তদন্তের সময়সীমা শুধুমাত্র ১ জুলাই থেকে ১৫ অগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হওয়া সহিংসতার তদন্ত হয়নি।
চিঠিতে রাষ্ট্রসংঘকে রিপোর্ট সংশোধন ও প্রকাশ্যে প্রত্যাহারের আবেদনও জানিয়েছেন শেখ হাসিনার আইনজীবী।
