চণ্ডীগড় — পাঞ্জাবে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পুরভোট। রাজ্যের ৮টি পুরনিগম, ৭৫টি পুরসভা এবং ২১টি নগর পঞ্চায়েতে ভোটগ্রহণ হবে। আগামী ২৯ মে ভোটগণনা করা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পুরভোটকে রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শহুরে ভোটারদের মনোভাব আগামী নির্বাচনের আগে বড় বার্তা দিতে পারে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে। শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে মোট ৩ হাজার ৯৭৭টি বুথ তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচনী কাজে প্রায় ৩৬ হাজার কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৫ হাজার ৫০০ পুলিশকর্মী এবং হোম গার্ড জওয়ান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
প্রতি বুথে পাঁচ জন করে কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা স্তরে দায়িত্বে থাকছেন আইএএস এবং পিসিএস আধিকারিকরাও।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৬ লক্ষ ৭২ হাজার ৯৩২ জন ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। এর মধ্যে ১৮ লক্ষের বেশি পুরুষ ভোটার, ১৭ লক্ষের বেশি মহিলা ভোটার এবং অন্যান্য শ্রেণির ২২৬ জন ভোটার রয়েছেন।
বাঠিন্ডা, আবোহর, বাটালা, বরনালা, কপুরথলা, মোগা, পাঠানকোট এবং মোহালির পুরনিগম নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তীব্র লড়াই তৈরি হয়েছে। বিশেষ ভাবে নজরে রয়েছে বরনালা পুরনিগম, যেখানে এই প্রথম বার নির্বাচন হচ্ছে।
ভোট ঘোষণার পর প্রথমে ১০ হাজার ৮০৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। পরে ২ হাজার ৩৯৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ৭৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। বর্তমানে মোট ৭ হাজার ৫৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শাসক আম আদমি পার্টি সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৮০১ জন প্রার্থী দিয়েছে। কংগ্রেসের প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৫৫০। বিজেপি ১ হাজার ৩১৬ জন এবং শিরোমণি অকালি দল ১ হাজার ২৫১ জন প্রার্থী দিয়েছে। বহুজন সমাজ পার্টির ৯৬ জন প্রার্থী লড়ছেন। এছাড়াও রয়েছেন ১ হাজার ৫২৮ জন নির্দল প্রার্থী।
রবিবার শেষ হয়েছে প্রচারপর্ব। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং প্রার্থীরা রোড শো ও জনসভা করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর প্রচারের জন্য মাত্র পাঁচ থেকে ছ’দিন সময় পেয়েছিলেন প্রার্থীরা।
এদিকে ভোটে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট সমস্ত বুথের ভিতরে এবং বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সেই ফুটেজ অন্তত এক বছর সংরক্ষণ করতে হবে।
প্রচণ্ড গরমের কারণে ভোটের সময় বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছে শিরোমণি অকালি দল। বর্তমানে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারিত রয়েছে। দলটির দাবি, সময় বাড়ালে শ্রমজীবী এবং কর্মজীবী মানুষের ভোটদানে সুবিধা হবে।
ভোট উপলক্ষে ২৬ মে পাঞ্জাব জুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বোর্ড-কর্পোরেশন বন্ধ থাকবে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টও কর্মীদের জন্য বিশেষ ছুটির ঘোষণা করেছে।
