কলকাতা— পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিল বিধানসভা (West Bengal Assembly) ভঙ্গের সিদ্ধান্ত ঘিরে। রাজ্যপাল আর এন রবি (R.N. Ravi)-র পদক্ষেপকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছে বিজেপি (BJP) এবং তাদের শরিক দলগুলি। তাঁদের দাবি, সংবিধানের নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা (Rahul Sinha) বলেন, ‘জনতার রায়ে হারার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পদত্যাগ করা উচিত ছিল। ভবানীপুরেও তিনি পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু তিনি মানুষের রায় মানতে চাননি।’
বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু (Khagen Murmu) দাবি করেন, সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যপাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারপরও ক্ষমতায় থাকা ঠিক হয়নি।’
শিবসেনা (Shiv Sena) নেত্রী শায়না এনসি (Shaina NC) বলেন, ‘২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় স্পষ্ট জনাদেশ। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বহু মন্ত্রীও নির্বাচনে হেরেছেন। তাই দ্রুত নতুন সরকার গঠন হওয়া উচিত।’
উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর (O.P. Rajbhar) বলেন, সরকার গঠনের সাংবিধানিক ক্ষমতা রাজ্যপালের হাতে থাকে। সেই কারণেই তিনি নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন।
হায়দরাবাদে বিজেপি নেতা টি আর শ্রীনিবাস (T.R. Srinivas) দাবি করেন, ৭ মে-র পর তৃণমূল সরকারের কার্যকাল কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই সংবিধান অনুযায়ী বিধানসভা ভঙ্গ করা হয়েছে।
তেলঙ্গানা বিজেপি সভাপতি এন রামচন্দ্র রাও (N. Ramchandra Rao) বলেন, কোনও সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলে বিধানসভা ভঙ্গ হওয়াই সাংবিধানিক নিয়ম।
বিহারের মন্ত্রী শ্রাবণ কুমার (Shrawon Kumar) মন্তব্য করেন, ‘আইন সবাইকে মেনে চলতে হয়। না মানলে তার ফল ভুগতে হয়।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভঙ্গের এই সিদ্ধান্তের পর রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে।
