বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোটদানের মাধ্যমে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে উঠে এল বাংলা। দ্বিতীয় দফা ভোটের শেষে বুথে বুথে মানুষের ঢল প্রমাণ করে দিল, গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলা এবার অন্য মাত্রা ছুঁয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ রাজ্যে ভোট পড়েছে ৯২.৫০ শতাংশ। চূড়ান্ত হিসেব প্রকাশিত হলে এই হার আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে মোট ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশ, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এর আগে ২০১৩ সালে ত্রিপুরা(Tripura Assembly Election 2013)-য় ৯১.৮২ শতাংশ ভোট পড়ে সর্বকালের রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় সেই রেকর্ড অটুট থাকলেও এবার তা ম্লান করে দিল পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal Assembly Election 2026)। প্রথম দফার ১৫২টি আসনে গত ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিনই ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়ে, যা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে বাংলা নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছে।
নির্বাচন কমিশনের মুখ্য কর্তা জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) সেই সময়ই মন্তব্য করেছিলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এত বেশি ভোট কখনও পড়েনি।’ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাধারণত ভোটের হার বেশি থাকে। যেমন নাগাল্যান্ডে ১৯৯৩ সালে ৯১.৫৩ শতাংশ, মণিপুরে ১৯৯৫ সালে ৯১.৪১ শতাংশ ভোট পড়েছিল। কিন্তু এবার সেই সমস্ত রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেল বাংলা।
দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এই সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বহু রাজ্যে ভোটের হার তুলনামূলকভাবে কম। উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) ২০১৭ সালে মাত্র ৬১.০৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল। বিহার (Bihar) ও দিল্লিতেও (Delhi) সেই হার যথাক্রমে ৬৬.৯৮ ও ৬৮.৮৬ শতাংশ।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলার মানুষের অংশগ্রহণ এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ প্রমাণ করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে তাঁরা কতটা সচেতন। ব্যালট হোক বা যন্ত্র—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে মানুষের হাতেই, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবারের ভোটে।
এখন নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। তবে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, ভোটের ময়দানে বাংলার এই রেকর্ড ভবিষ্যতে বহুদিন আলোচনার কেন্দ্রেই থাকবে।
