কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম কর্তা বিনেশ চান্ডেলের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইনের আওতায় দিল্লিতে সোমবার রাতে বিনেশ চান্ডেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ২ এপ্রিল দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং মুম্বাইয়ে আই-প্যাকের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এই গ্রেপ্তার বলে দাবি তদন্তকারীদের।
এর আগেও ৮ জানুয়ারি কলকাতায় আই-প্যাক দফতর এবং সংস্থার আর এক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, তল্লাশির সময় নথি সরানোর ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় ইডি, যদিও শুনানি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভোটের মাত্র ১০ দিন আগে এই গ্রেপ্তার শুধু উদ্বেগজনক নয়, এটি নির্বাচনে সমান সুযোগের ধারণাকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। এটি গণতন্ত্র নয়—ভীতিপ্রদর্শন।’
অভিষেকের অভিযোগ, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা দল বদল করলেই সুরক্ষা পাচ্ছেন। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে সুবিধাজনক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘যখন গণতন্ত্র রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলিই চাপের হাতিয়ার বলে মনে হতে শুরু করে, তখন মানুষের আস্থা কমে যায়।’
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি ইডি, এনআইএ, সিবিআই-এর মতো সংস্থাগুলির এই সময় সক্রিয়তা ভোটের পরিবেশে ভয়ের আবহ তৈরি করছে। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর উদ্দেশে কড়া বার্তাও দেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ‘বাংলা ভয় পায় না, মাথা নোয়ায় না। চাপের জবাব প্রতিরোধ দিয়েই দেবে।’
ইডির দাবি, পশ্চিম বর্ধমানের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের খনি এলাকায় বহু কোটি টাকার কয়লা পাচার কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত হাওয়ালা লেনদেনের সূত্রেই এই তদন্ত। অভিযোগ, ওই অবৈধ অর্থের একটি অংশ আই-প্যাক ঘনিষ্ঠ সংস্থার মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, প্রায় ২০ কোটি টাকার হাওয়ালা তহবিল আই-প্যাকের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংস্থার ঘনিষ্ঠ মহল।
previous post
