মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করল শিব সেনা। বৃহস্পতিবার শিব সেনা নেত্রী শাইনা এনসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কারও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা উচিত নয় এবং এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও সংবেদনশীলতাহীন।
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, তাঁর মৃত্যু ঘিরে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে এবং তিনি নাকি এনডিএ ছেড়ে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’তে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। এই মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে শাইনা এনসি বলেন, এটি কোনও রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং দেশের জন্য এক গভীর শোকের মুহূর্ত।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাইনা এনসি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এটা রাজনীতি হতে পারে, কিন্তু গোটা দেশের কাছে এটি এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অজিত পাওয়ার কাজের সূত্রে বারামতিতে গিয়েছিলেন। প্রযুক্তিগত ত্রুটি হতে পারে, তদন্ত হওয়া দরকার, কিন্তু একে ষড়যন্ত্র বলা ঠিক নয়। এটা কোনও বি-গ্রেড ছবির চিত্রনাট্য নয়। সহানুভূতি জানাতে না পারলে, অন্তত এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার) প্রধান শরদ পাওয়ার ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং কোনও ষড়যন্ত্রের প্রশ্ন নেই। “আগামী দিনে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। যারা এই দুঃখজনক ঘটনাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে চাইছেন, তাদের মনে রাখা উচিত—মৃত্যু কোনও উপহার নয়, অনেক সময় তা ভাগ্যের পরিণতি,” বলেন শাইনা।
অজিত পাওয়ারের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা স্মরণ করে শাইনা এনসি বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি মহারাষ্ট্রের জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। “বারামতি থেকে বিধায়ক হিসেবে শুরু করে অর্থমন্ত্রী, সেচমন্ত্রী এবং ছয়বার উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ৬৬ বছর ৬ মাস ৬ দিনের বয়সে তাঁর মৃত্যু মহারাষ্ট্র রাজনীতির অপূরণীয় ক্ষতি। একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে অজিত পাওয়ার ‘দাদা’ চিরস্মরণীয় থাকবেন,” তিনি বলেন।
শাইনা এনসি আরও জানান, অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে এক বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। “বারামতি ও গোটা রাজ্যের জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন। একনাথ শিন্ডে ও মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। তাঁর অনুপস্থিতি গভীরভাবে অনুভূত হবে,” বলেন তিনি।
অজিত পাওয়ারের মানবিক দিক তুলে ধরে শাইনা বলেন, “তিনি শুধু জননেতাই ছিলেন না, ছিলেন সহজলভ্য প্রশাসক। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তাঁর ‘ওপিডি’ খোলা থাকত, যেখানে সাধারণ মানুষ এসে নিজেদের সমস্যার কথা বলতেন। তিনি ধৈর্য সহকারে সেগুলি শুনে সমাধানের চেষ্টা করতেন। এটাই ছিল তাঁর জনসেবার প্রকৃত পরিচয়।”
