ভুবনেশ্বর, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ – রাজ্যে অবৈধ খনন কার্যকলাপ নিয়ে ওড়িশা সরকারকে শোকজ নোটিস জারি করেছে ওড়িশা হাই কোর্ট।এই অবৈধ খননের ফলে রাজ্য সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকা, এমন অভিযোগ উঠেছে।প্রধান বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন এবং বিচারপতি এম এস রমনের ডিভিশন বেঞ্চ, শ্রবণ কুমার দেব দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি।আবেদনকারী তার আবেদনে উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার অবৈধ খনন রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে ব্যাপক হারে খনিজ লুট চললেও প্রশাসনের ভূমিকা উদাসীন।পিআইএলে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ ইতিপূর্বে ওড়িশায় অবৈধ খনন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।তবুও রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ।শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, অবৈধ খননে যুক্তদের উপর শতভাগ জরিমানা আরোপ করতে হবে এবং এর কোনও ব্যতিক্রম হতে পারে না।
এই প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্যে অবৈধ খননের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য ও এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দিতে হবে।উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৪ সালে গঠিত সেন্ট্রাল এমপাওয়ার্ড কমিটি (CEC) ওড়িশার খনন ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি চিহ্নিত করেছিল।কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮৭টি লিজধারী সংস্থার মধ্যে ১০২টির কাছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ২,১৫৫ মিলিয়ন টন লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ আকরিক উত্তোলন করা হয়েছিল।এছাড়াও কেন্দ্র সরকার গঠিত শাহ কমিশন ২০১০ সালে ওড়িশার খনন কেলেঙ্কারি তদন্ত করে জানিয়েছিল, রাজ্যে খনন ক্ষেত্রে অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ৫৯,০০০ কোটি টাকা।তবুও রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ।
