হুগলি—
ফের বিতর্কের কেন্দ্রে ওড়িশা। লাঞ্ছনার শিকার রাজ্যের এক পরিযায়ী শ্রমিক। শুধু মারধরই নয়, দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করে জমানো ৫০ হাজার টাকাও কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে। হুগলির গোঘাটে নিজের বাড়িতে ফিরে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন পাথরমিস্ত্রি রাজা আলি।
আগামী ২২ জানুয়ারি হুগলিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা থাকায় তাঁর সঙ্গে দেখা করে নিজের দুর্দশার কথা জানাতে চান ওই যুবক।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আট মাস আগে কাজের সন্ধানে ওড়িশার কটকে গিয়েছিলেন রাজা। গোঘাটের ভাদুর পঞ্চায়েতের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজার অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার জন্যই স্থানীয় কয়েক জন তাঁকে নিয়মিত হুমকি দিত। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, প্রাণভয়ে লুকিয়ে কাজ করতে বাধ্য হন তিনি। এমনকি যে ভাড়াবাড়িতে থাকতেন, সেই বাড়ির মালিক অশান্তি এড়াতে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে রাখতেন বলেও অভিযোগ।
এই ভাবেই চলছিল দিন। কিন্তু বুধবার আচমকাই ১০–১২ জনের একটি দল তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ রাজার। তাঁর দাবি, ‘বাংলায় কথা বলাই যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশি সন্দেহ করে আমাকে মারধর করা হয়েছে।’ রাজার কথায়, ‘আমাকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয়। তার পরেও আট মাস ধরে কষ্ট করে জমানো ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। ভয়ে-আতঙ্কে রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে ওড়িশা ছাড়তে বাধ্য হই।
’রাজার আরও দাবি, তাঁদের বিরামপুর গ্রামে প্রায় ১৭০টি পরিবার বসবাস করে। গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ ভিন্রাজ্যে কর্মরত। গ্রামে বিজেপির সমর্থক বেশি বলেও তাঁর বক্তব্য। বিজেপিশাসিত রাজ্যে এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের উপর এ ধরনের হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছে। দলের তরফে রাজা আলির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, এ ধরনের কোনও ঘটনাই ঘটেনি।এ দিকে, ছেলের উপর নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজার অসুস্থ বাবা।
কাঁপা গলায় তিনি বলেন, ‘ছেলের রোজগারেই সংসার চলত। সেই টাকাটাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন কী ভাবে সংসার চলবে, সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না।’
রাজার পরিবার জানিয়েছে, ২২ জানুয়ারি হুগলিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার কথা শুনেছেন তাঁরা। সেই সভায় গিয়ে নিজেদের অসহায়তা ও দুরবস্থার কথা তৃণমূল নেতৃত্বকে জানাতে চান বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
