24 C
Kolkata
March 21, 2026
দেশ

২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম নেই, এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড়ালেন খোদ বিডিওমেটলি—

এসআইআর প্রক্রিয়ার আতস কাঁচের তলায় এবার খোদ রাজ্যের এক পদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিক। ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন এই ঘটনা ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার মাটিয়ালি ব্লকের মেটলি এলাকায়। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার অভিযোগে শুনানির নোটিস পৌঁছেছে স্বয়ং ওই ব্লকের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক ভারতী চিক বড়াইকের কাছে। যিনি আবার নিজেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় এসআইআর প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক শিবিরেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে বিডিও ভারতী চিক বড়াইক-সহ তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যকে। তালিকায় রয়েছেন তাঁর পিতা কপিল চিক বড়াইক, বোন আরতি চিক বড়াইক এবং ভাই প্রণব চিক বড়াইক। অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের কারও নামই নথিভুক্ত ছিল না। সেই কারণেই নিয়ম অনুযায়ী শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই শুনানিতে হাজির হয়েছেন বিডিও ভারতী চিক বড়াইক। প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই তিনি নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হয়ে নিজের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথি পেশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে তাঁর বাবা, ভাই এবং বোনকে আগামী শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছে। তাঁদের উপস্থিতি ও নথি যাচাইয়ের পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।যদিও ভারতী চিক বড়াইকের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, তাঁরা ১৯৯৯ সালেই মেটলি হাসপাতাল পাড়া এলাকায় জমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁরা সকলেই ভারতীয় নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে মালবাজার মহকুমার জুরন্তি চা বাগান এলাকায় তাঁদের বসবাস। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ২০০৪ সালে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

তার আগে একাধিকবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করা হলেও নানা কারণে নাম ওঠেনি।এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় কতটা কঠোরভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হচ্ছে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিডিও নিজেই যখন শুনানির মুখোমুখি হচ্ছেন, তখন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ থাকবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনা এসআইআর প্রক্রিয়ার জটিলতা ও বাস্তব সমস্যাগুলিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।এখন সকলের নজর প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

শুনানি শেষে নথিপত্র যাচাই করে এসআইআর কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপর নির্ভর করছে এই ব্যতিক্রমী ঘটনার ভবিষ্যৎ পরিণতি।

Related posts

Leave a Comment