শিলিগুড়ি | ২০ জুন: টানা ভারী বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। বালাসন নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুধিয়ার নবনির্মিত হিমপাইপের সেতু। ফলে মিরিক হয়ে দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ আপাতত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা নাগাদ পাহাড় ও শিলিগুড়ি জুড়ে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়, যা রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। এই অল্প সময়ের মধ্যেই পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বালাসন নদীর প্রবল স্রোতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুধিয়ার বিকল্প সেতুটি।
এর ফলে এখন মিরিকের বাসিন্দাদের শিলিগুড়ি যেতে ঘুম হয়ে ঘুরপথ ব্যবহার করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকেরা।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে ভয়াবহ বৃষ্টির জেরে মিরিক, কার্শিয়াং ও দার্জিলিংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা ধসের কবলে পড়েছিল। সেই সময় বালাসনের জলের তোড়ে দুধিয়ার মূল সেতুর একটি পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দ্রুত হিমপাইপ ব্যবহার করে একটি অস্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী বৃষ্টি হলেই এই সেতু বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, নতুন স্থায়ী সেতুর নির্মাণকাজ চলছে, তবে তা আগামী বছরের আগে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতের আড়াই ঘণ্টায় মিরিকে ৬৩ মিলিমিটার এবং কার্শিয়াংয়ে ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ জল বালাসন নদী দিয়ে নামার ফলেই ডাইভারশনটি ভেঙে যায়।
অন্যদিকে, একই সময়ে শিলিগুড়িতে ২৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে মহানন্দা-সহ একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। মহানন্দা নদীতে জল বিপদসীমার সামান্য নীচ দিয়ে বইছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নদীর স্রোতের বেগ কমলেই দুধিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত ডাইভারশন মেরামতির কাজ শুরু করা হবে।
