September 17, 2026
কলকাতা

মহালয়ার আগেই মহাকরণে ফিরতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী

ছয় মন্ত্রীর ঘর দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ

দীর্ঘদিন ধরে চলা মহাকরণ সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর-সহ ছয় মন্ত্রীর ঘরের সংস্কারের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, শংকর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দারের দপ্তর তৈরি করা হচ্ছে। মহালয়ার আগেই এই ছয়টি ঘরের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে পূর্ত দপ্তরকে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের অংশের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে বলে পূর্ত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক এবং আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ আমলার জন্য নির্ধারিত দপ্তর তৈরির কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ধাপে ধাপে মহাকরণে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও সূত্রের খবর।

মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর চালু হলে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফের ঐতিহাসিক এই ভবনে ফিরবে। ব্রিটিশ আমলে তৈরি মহাকরণ দীর্ঘদিন রাজ্য প্রশাসনের প্রধান কেন্দ্র ছিল। তবে ভবনটির পরিকাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় ২০১৩ সালে প্রশাসনিক দপ্তরের একটি বড় অংশ নবান্নে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এর পর থেকে নবান্ন থেকেই রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয়ে আসছে। মহাকরণ সংস্কারের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তা সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংস্কারের কাজের গতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নও উঠেছে। এখনও ভবনের সব অংশ ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠেনি বলে জানা গিয়েছে।

এখন রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মহাকরণকে ফের প্রশাসনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নবান্নের পরিবর্তে মহাকরণ থেকে প্রশাসন পরিচালনার কথা বলা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যেই সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।

তবে মহাকরণের সংস্কারের কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আরও সময় লাগবে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়নি। প্রথম ধাপে মুখ্যমন্ত্রী ও পাঁচ মন্ত্রীর দপ্তর এবং কয়েক জন শীর্ষ আমলার ঘর ব্যবহারের উপযোগী করার কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এরই মধ্যে মহাকরণ সংস্কারের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীকে দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ফলে সংস্কারের পরবর্তী পর্যায়ে কোন সংস্থা দায়িত্ব পাবে, তা নিয়ে আপাতত অপেক্ষা রয়েছে।

মহালয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর চালু করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা গেলে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারের কাজ কতটা শেষ করা সম্ভব হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment