সংবাদ কলকাতা: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি এবং বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে একাধিক দেশ কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। কোথাও বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে নাগরিকদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি স্তরে নেওয়া হচ্ছে বড় সিদ্ধান্ত। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের এই পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির চাপ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং পরিবেশগত সমস্যার জেরে বহু দেশ এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
আমেরিকার একাধিক অঙ্গরাজ্যে নাগরিকদের বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে যাতায়াত কমে এবং জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস পায়। দক্ষিণ কোরিয়াতেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নানা পরামর্শ জারি করা হয়েছে।
পাকিস্তানে (Pakistan) শক্তি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে পাকিস্তান সুপার (Pakistan Super League) লিগের কিছু ম্যাচ দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহে চার দিন স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শ্রীলঙ্কাতেও জ্বালানি বাঁচাতে বিশেষ ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে (Bangladesh) বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শপিং মল দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা কমানোর উপরেও জোর দিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে চিন (China) বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ব্যবহার বাড়াতে নাগরিকদের উৎসাহিত করছে।
জার্মানি (Germany) ‘কার-ফ্রি সানডে’ চালু করেছে। ফ্রান্স (France) স্বল্প দূরত্বের কিছু বিমান পরিষেবা বন্ধ করেছে, যেখানে দ্রুত ট্রেন পরিষেবা রয়েছে। ইতালি (Italy) সরকারি ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট করেছে।
থাইল্যান্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জার্মানিতে ‘কার-ফ্রি সানডে’ চালুর মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়ের চেষ্টা চলছে। স্পেনেও (Spain) অফিস দ্রুত বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্স এমন কিছু স্বল্প দূরত্বের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবা বন্ধ করেছে, যেখানে একই পথে দ্রুত ট্রেন পরিষেবা রয়েছে। ইতালিতে সরকারি ভবনগুলিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ন্যূনতম তাপমাত্রা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ব্রাজিল গণপরিবহন ব্যবহারে জোর দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক চাপ নয়, পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যেও এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে বহু দেশ।
তবে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সব তথ্য যে পুরোপুরি যাচাই করা, তা নয়। কিছু দাবির সরকারি প্রমাণ এখনও স্পষ্ট নয় বলেও জানা গিয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনও তথ্য বিশ্বাস করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তা যাচাই করা প্রয়োজন।
