সংবাদ কলকাতা: পুজোর আগে রাজ্যের প্রবীণ, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ নাগরিকদের জন্য বড় আর্থিক স্বস্তির ঘোষণা। বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতার মাসিক অঙ্ক ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। সোমবার নবান্ন সভাঘরে এই বর্ধিত হারে ভাতা প্রদানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কয়েকজন সুবিধাভোগীর হাতে নিজে বর্ধিত ভাতার অর্থ তুলে দেন তিনি।
একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা ভাতার ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। আগের সরকারের সময়ে তৈরি করা অপেক্ষমাণ তালিকা বাতিল করে নতুন করে যোগ্য সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁরা আগে ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন কিন্তু অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন, তাঁদের নতুন করে জনকল্যাণ শিবিরে আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, ভাতার সুবিধা যাতে প্রকৃত যোগ্য মানুষের কাছেই পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। নতুন করে আবেদন নেওয়ার পর নথি যাচাই করে যোগ্যতার ভিত্তিতে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করা হবে। আগামী দিনে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুরসভার ওয়ার্ড এলাকায় জনকল্যাণ শিবির আয়োজন করে আবেদন নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন থেকে বর্ধিত হারে ভাতার টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি হিসাবে, বিপুল সংখ্যক উপভোক্তা এই সুবিধার আওতায় আসছেন। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ফলে মাঝখানে কোনও মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা থাকবে না বলেও সরকারের তরফে জোর দেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভুয়ো ও অযোগ্য সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগের তালিকায় কোথাও কোথাও ভুল তথ্য বা অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাই নতুন তালিকা তৈরির সময় আবেদনকারীদের নথি ভালোভাবে যাচাই করা হবে।
দিব্যাঙ্গ মহিলাদের জন্যও বিশেষ সুবিধার কথা তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য দিব্যাঙ্গ মহিলাদের ক্ষেত্রে দিব্যাঙ্গ ভাতার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা মিলিয়ে মাসে মোট ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। একই বয়সের বিধবা মহিলাদেরও অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধার আওতায় আসার বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী অর্থবর্ষে সামাজিক সুরক্ষা ভাতার অঙ্ক আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, একদিকে রাজ্যের আয় বাড়ানো এবং অন্যদিকে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপুজোর আগে ভাতা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের প্রবীণ, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ নাগরিকদের বড় অংশের মাসিক আয় কিছুটা বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন করে যোগ্য সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরির সিদ্ধান্তের ফলে এতদিন অপেক্ষায় থাকা বহু আবেদনকারীরও নতুন করে সুযোগ তৈরি হল।
