30 C
Kolkata
October 12, 2026
কলকাতা

গড়িয়াহাট বাজারে পুরসভার হানা, বাজেয়াপ্ত ১৫ কেজি ফ্রোজেন মাংস

সংবাদ কলকাতা: সপ্তাহের শুরুতেই কলকাতার ব্যস্ত গড়িয়াহাট বাজারে অতর্কিত অভিযান কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের। হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাবারের দোকানে নজরদারির পর এবার সরাসরি কাঁচাবাজারে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। মাছ-মাংসের দোকানে অভিযান চালিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হল বিপুল পরিমাণ ফ্রোজেন মাংস। পরীক্ষার পর প্রায় ১৫ কেজি মাংস ব্যবহারের অযোগ্য বলে মনে হওয়ায় তা নষ্ট করে দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে গড়িয়াহাট বাজারের কয়েকটি দোকানে নিম্নমানের এবং সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়ম না মেনে খাদ্যসামগ্রী বিক্রির অভিযোগ উঠছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন আচমকা বাজারে পৌঁছে যান পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। সকালবেলা দোকান খুলে স্বাভাবিক ব্যবসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিক্রেতারা। আচমকা আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় বাজারের পরিস্থিতি।

অভিযানের সময় মাছ ও মাংসের দোকানগুলিতে বিশেষ নজর দেন আধিকারিকরা। সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ক্রেট এবং প্যাকেট খুলে পরীক্ষা করা হয়। সেখানেই বিপুল পরিমাণ প্যাকেটবন্দি চিকেন ও মাটন দেখতে পান তাঁরা। মাংসের প্যাকেটগুলিতে সেটি কবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং কতদিন পর্যন্ত তা ব্যবহারযোগ্য থাকবে, সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তারিখ উল্লেখ ছিল না বলে অভিযোগ।


এরপরই ব্যবস্থা নেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। প্রায় ১৫ কেজি ফ্রোজেন মাংস বাজেয়াপ্ত করা হয়। মাংসগুলি যাতে আর কোনওভাবেই মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, সে জন্য সেগুলিতে ফিনাইল ঢেলে নষ্ট করে দেওয়া হয়। পরে পুরসভার গাড়িতে করে সেই মাংস নিয়ে গিয়ে ভ্যাটে ফেলে দেওয়া হয়।

শুধু মাংস নয়, বাজারের মাছের গুণগত মান নিয়েও সতর্ক পুরসভা। গড়িয়াহাটের বিভিন্ন মাছের দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। প্রতিটি নমুনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর নাম ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান এবং দুধ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে ইতিমধ্যেই ধারাবাহিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। বাসি খাবার, নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী কিংবা মেয়াদ সংক্রান্ত নিয়ম না মেনে পণ্য বিক্রির অভিযোগ পেলেই অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই নজরদারির পরিধি এবার বাড়িয়ে কাঁচাবাজারেও পৌঁছলেন আধিকারিকরা।

গড়িয়াহাটের অভিযানে ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কাঁচা মাছ ও মাংস বিক্রির সময় খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনে চলতে হবে। সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম বজায় রাখার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রীর গুণগত মান নিয়েও কোনওরকম আপস করা যাবে না। ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

এই অভিযানের জেরে গড়িয়াহাট বাজারে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে সাধারণ মানুষের খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলেই মনে করছেন ক্রেতাদের একাংশ।

Related posts

Leave a Comment