November 2, 2026
রাজ্য

১০০ দিনের কাজের বকেয়া মেটাতে জেলাস্তরে যাচাই শুরু

সংবাদ কলকাতা: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পাঁচ মাসের মাথায় ১০০ দিনের কাজের বকেয়া মজুরি মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তবে সরাসরি টাকা দেওয়ার পথে না হেঁটে, প্রথমে প্রকৃত উপভোক্তা এবং তাঁদের পাওনা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। ভুয়ো নাম বাদ দেওয়া এবং কাজের সত্যতা নিশ্চিত করতে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় নতুন করে নথি পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকের কাছে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ এবং তার আগের সময়ের বকেয়া হিসাব খতিয়ে দেখা হবে। কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে কোনও শ্রমিকের নাম থাকলেই তাঁকে বকেয়া পাওয়ার যোগ্য বলে ধরে নেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাস্তবে কাজ হয়েছিল কি না, কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত অনুমোদন ছিল কি না, খরচের হিসাব সঠিক রয়েছে কি না এবং বরাদ্দের অর্থ অন্য কোনও খাতে সরানো হয়েছিল কি না—সব দিক পরীক্ষা করা হবে।

এই কাজের জন্য ব্লক, জেলা ও রাজ্য—তিন স্তরে যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ব্লক স্তরের যাচাই শেষ করতে হবে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জেলা স্তরের অনুসন্ধান ও রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা রাখা হয়েছে। এরপর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্য স্তরে তথ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবশেষে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যাচাই করা এবং চূড়ান্ত ভাবে প্রত্যয়িত বকেয়ার হিসাব কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে পাঠানোর কথা।


এই যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হলেও সমস্ত দাবিদারের টাকা মেলার নিশ্চয়তা নেই। প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, যে সব দাবি নিয়ম মেনে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের মাধ্যমে বৈধ বলে প্রমাণিত হবে, কেবল সেগুলিই চূড়ান্ত বকেয়ার তালিকায় জায়গা পাবে। ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের হিসাব আপাতত এই যাচাইয়ের আওতায় রাখা হচ্ছে না। ওই সময়ের পাওনা নিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক পৃথক ভাবে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গিয়েছে।

১০০ দিনের কাজের বকেয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে কেন্দ্রের সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকে রাজ্যে এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থ ছাড় বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্র বরাদ্দ আটকে রেখেছিল বলে দাবি করেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। অন্য দিকে, তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বরাদ্দ বন্ধ রাখার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন।

কেন্দ্রীয় অর্থ না পাওয়ায় রাজ্যের কোষাগার থেকে প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা খরচ করে ৩০ লক্ষের কাছাকাছি জব কার্ডধারীর মজুরি মেটানো হয়েছিল বলে দাবি করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তৎকালীন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীরা কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগ করলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দিল্লিতে বিক্ষোভও হয়েছিল।

এ বার সরকার বদলের পর সেই বকেয়া হিসাব নতুন করে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিল নবান্ন। তবে যাচাইয়ের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কবে এবং কত টাকা শ্রমিকদের হাতে পৌঁছবে, তা স্পষ্ট নয়। আপাতত প্রশাসনের লক্ষ্য, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমস্ত স্তরের পরীক্ষা শেষ করে প্রকৃত পাওনাদারদের তালিকা তৈরি করা।

Related posts

Leave a Comment