July 2, 2026
কলকাতা

আর জি কর তিলোত্তমা-কাণ্ডে ভিসেরা নমুনা নষ্টের অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে পরিবার

সংবাদ কলকাতা: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক তিলোত্তমার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। এবার নিহতের পরিবারের হাতে পৌঁছেছে এক প্রাক্তন ফরেন্সিক আধিকারিকের চিঠি, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্য ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে তিলোত্তমার ভিসেরা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ নমুনা ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, এই কাজ তিন জন ফরেন্সিক আধিকারিকের মাধ্যমে করা হয়েছিল এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, কয়েক দিন আগে তাঁদের কাছে পৌঁছানো ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে যে তিলোত্তমার লিভার, কিডনি এবং পাকস্থলীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, যাতে তাঁর শরীরে কোনও বিষক্রিয়া হয়েছিল কি না অথবা তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা করা যায়। কিন্তু সেই নমুনাই পরে বদলে ফেলা হয় এবং রাজ্য ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে তা নষ্ট করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের বক্তব্য, রাজ্য ফরেন্সিক পরীক্ষাগার থেকে যে নমুনা কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল, সেটিও আসল নমুনা ছিল না। ফলে তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। নিহতের বাবার দাবি, ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবে তিন জন ফরেন্সিক আধিকারিকের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই ঘটনার পর চিঠিটি শিয়ালদহ আদালতের বিচারকের কাছে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। তাঁদের আবেদন, অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে আদালত যেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরিবারের মতে, যদি ভিসেরা নমুনা নষ্ট করার অভিযোগ সত্যি হয়, তা হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠে যাবে।

চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, শুধু তিলোত্তমার মামলাই নয়, তৎকালীন শাসনামলে খুন হওয়া বিজেপি ও সিপিএম কর্মীদের কয়েকটি মামলার ভিসেরা নমুনাও একইভাবে নষ্ট করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের কোনও সরকারি বা বিচারিক সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে নাইট ডিউটির সময়ে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। প্রথমে কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। বিচার শেষে শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তবে শুরু থেকেই নিহতের পরিবার দাবি করে এসেছে, এই ঘটনায় আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে।

এবার প্রাক্তন এক ফরেন্সিক আধিকারিকের চিঠিতে ভিসেরা নমুনা নষ্টের অভিযোগ সামনে আসায় মামলাটি নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালত এই অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআইকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment