নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম— তারাপীঠের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে মেঘালয়ের একই পরিবারের পাঁচ সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। মৃতদের মধ্যে এক মহিলা এবং পাঁচ জন পুরুষও রয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হোটেল থেকে ২৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আরও সাত জন রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ তারাপীঠ থানার কাছেই হোটেল ‘বিদেশিনী’-তে আগুন লাগে। হোটেলের নীচের তলায় প্রথমে আগুন দেখা যায়। পরে তা দোতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। উপরের তলাগুলিতে আগুন না পৌঁছলেও পাঁচতলা পর্যন্ত ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে যায়। সেই সময় হোটেলের অধিকাংশ আবাসিক ঘুমোচ্ছিলেন। আগুন এবং ধোঁয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা হোটেলে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মেঘালয়ের সাউথ গারো হিল্স জেলার শিববাড়ি গ্রাম থেকে একটি পরিবার তারাপীঠে পুজো দিতে এসেছিল। হোটেলের সবচেয়ে উপরের তলায় ছিলেন ওই পরিবারের সদস্যেরা। আগুন লাগার খবর পেয়ে শিশুদের নিয়ে একসঙ্গে নীচে নামার চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু সিঁড়ির কাছে পৌঁছতেই আগুনের মুখে পড়েন। তাঁদের মধ্যে রাজেন্দ্র নাথ, তাঁর স্ত্রী আশা নাথ এবং তাঁদের আট বছরের পুত্র ঔষনাথ মদকের মৃত্যু হয়েছে। একই পরিবারের বুরান মদক এবং তাঁর ১০ বছরের পুত্র শিবরাজ মদকও প্রাণ হারিয়েছেন।
মৃতদের তালিকায় আলিপুরদুয়ারের তিন জনও রয়েছেন। তাঁরা হলেন কমল রায়, অমিত পাল এবং সুবীর সাহা। অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল থেকে ২৮ জনকে নিরাপদে বার করে আনা হয়। সাত জনকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার পর হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোটেল থেকে বেরোনোর জন্য দু’টি দরজা ছিল বলে জানা গিয়েছে। আগুন লাগার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় হোটেলের ভিতর অন্ধকার হয়ে যায়। অভিযোগ, পিছনের দরজাটি বন্ধ থাকায় অনেকেই সেটি খুঁজে পাননি। ফলে সামনের রিসেপশনের দিক দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন অনেকে। সেই পথেই আগুনের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। যদিও হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না বলে জানিয়েছে দমকল।

ঘটনার তদন্তে হোটেল মালিক কল্যাণ পালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হোটেল পরিচালনায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মালিককে জিজ্ঞাসাবাদও করছেন তদন্তকারীরা।
অগ্নিকাণ্ডের পর তারাপীঠের সমস্ত হোটেল, অতিথিশালা এবং হোমস্টেতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক ধবল জৈন বিদ্যুৎ সংযোগ এবং স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবারই এ নিয়ে নির্দেশিকা জারি হয়েছে।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা। ওই সময়ে তারাপীঠে কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। তাই তার আগেই হোটেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন।

ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহাও। হোটেলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
