সংবাদ কলকাতা: দুর্গাপুজোর পর বাসভাড়া বাড়ানোর পথে এগোতে পারে রাজ্য সরকার। সরকারি ও বেসরকারি বাসের পাশাপাশি দূরপাল্লার বাসের ভাড়াও নতুন করে নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং (Arjun Singh) জানিয়েছেন, পুজোর আগে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে না। তবে পুজোর পরে বাস মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বেসরকারি বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পরে পরিবহণমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সাল থেকে বাসভাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া না বাড়ায় বাস পরিষেবা চালাতে মালিকদের সমস্যা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বাস পরিষেবা এবং যাত্রী পরিষেবার মান বজায় রাখার উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি।
২০১৮ সালে সরকারি ভাবে বাসভাড়ার সর্বনিম্ন হার ছিল ৭ টাকা। কোভিডের সময় থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হলেও সেই বিষয়ে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। ফলে নতুন করে ভাড়া বাড়লে সর্বনিম্ন ভাড়া কত করা হবে, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে টোল (Toll) নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বাস মালিকদের অভিযোগ, একই জেলার মধ্যে বিভিন্ন টোলপ্লাজায় আলাদা হারে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতে সব টোলপ্লাজায় নির্দিষ্ট হার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে (National Highways Authority) দ্রুত বিষয়টি দেখার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ওড়িশার (Odisha) ধাঁচে টোল ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট হার চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। বাস মালিকদের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে রুট পরিচালনার খরচ সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া সহজ হবে।
বড় রাস্তায় টোটো (Toto) চলাচল নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন অর্জুন সিং। মূল রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে টোটো পরিষেবার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন নিয়ম চালুর প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী।
বাস মালিকদের নাইট পার্কিং (Night Parking) সমস্যার বিষয়েও বৈঠকে সমাধানের আশ্বাস মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে শহর ও শহরতলিতে বাস রাখার জায়গা নিয়ে যে সমস্যা ছিল, তা মেটানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বাস মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা বাসের কর এবং তার সঙ্গে যুক্ত জরিমানার বিষয়েও স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। বকেয়া কর জমা দিলে জরিমানার একটি অংশ মকুব করার বিষয়ে বিবেচনা করা হতে পারে বলে পরিবহণমন্ত্রী জানিয়েছেন।
এ দিকে দুর্গাপুজোর সময় যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে পুজোর আগেই প্রায় ৩০০টি সরকারি বাস (Government Bus) রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কলকাতা ও শহরতলির গণপরিবহণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত বাস যুক্ত হলে পুজোর ভিড়ে যাতায়াত কিছুটা সহজ হতে পারে।
বৈঠক শেষে বাস মালিক সংগঠনগুলিও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সারা বাংলা বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় (Rahul Chattopadhyay) জানিয়েছেন, মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তাঁরা খুশি। টোলের সমস্যা দ্রুত মিটবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসেসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা (Titu Saha) পুজোর পর ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় (Tapan Bandyopadhyay) নাইট পার্কিংয়ের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন। ওয়েস্টবেঙ্গল বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ নারায়ণ বসুও (Pradip Narayan Basu) বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সব মিলিয়ে পুজোর আগে বাড়তি সরকারি বাস নামানোর সিদ্ধান্তে যাত্রীদের স্বস্তি মিললেও পুজোর পর বাসভাড়া বাড়ার সম্ভাবনা নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে। তবে নতুন ভাড়ার কাঠামো কী হবে এবং সর্বনিম্ন ভাড়া কত করা হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
