সংবাদ কলকাতা: ব্যাট হাতে নামলেই যেন অন্য মানুষ। প্রতিপক্ষ বোলারদের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে আক্রমণ, চার-ছক্কার ঝড়। অথচ মাঠের বাইরে একেবারেই শান্ত, চুপচাপ এবং মিষ্টি স্বভাবের কিশোর। বৈভব সূর্যবংশীর এই দুই রূপই কাছ থেকে দেখেছেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে বৈভবকে নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন তিনি।
মাত্র কয়েক দিনেই শ্রেয়সের মন জয় করে নিয়েছেন ১৫ বছরের বৈভব। ‘জিয়োস্টার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারত অধিনায়ক জানান, বৈভবের সঙ্গে নিয়মিত তাঁর কথা হয়। তবে শুধু ক্রিকেট নয়, মাঠের বাইরের জীবন নিয়েও তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন শ্রেয়স।
শ্রেয়স বলেন, ‘আমি সবসময় বৈভবের সঙ্গে কথা বলি। ও মাঠের বাইরে কী করে, সেই বিষয়েও কথা হয়। সকলে ওর ক্রিকেট, ওর ব্যাটিং নিয়ে আলোচনা করে। আমরা সবাই জানি ও কতটা প্রতিভাবান। কিন্তু মাঠের বাইরে ওর জীবন কেমন, সেটা অনেকেই জানে না। তাই ওর পরিবার নিয়েও কথা বলি। ও যখন নিজের ব্যাপারে কথা বলে, তখন শুনতে খুব ভাল লাগে।’

শ্রেয়সের চোখে মাঠের ভিতরের বৈভব আর মাঠের বাইরের বৈভব যেন সম্পূর্ণ আলাদা। সাজঘরে তাঁর উপস্থিতিও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ভারত অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘ও খুবই চুপচাপ থাকে। কিন্তু মাঠে নামলে সম্পূর্ণ বদলে যায়। খুব মিষ্টি একটা ছেলে। ওর সঙ্গে কথা বলতে খুব ভাল লাগে। সাজঘরে ওর মতো ক্রিকেটার থাকা খুব দরকার।’
এশিয়ান গেমসে অভিষেক শর্মা এবং সঞ্জু স্যামসনের মতো অভিজ্ঞ ওপেনার দলে থাকার পরেও বৈভবকে ওপেনার হিসাবে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে তাই ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বৈভবকে প্রথম একাদশে দেখা যাবে কি না, সেই সম্ভাবনা আপাতত কম।
শ্রেয়সের কথাতেও তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের দলে দু’জন বিশ্বকাপজয়ী ওপেনার রয়েছে। ওরা সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। বৈভবের বয়স এখন ১৫ বছর। ওর সময় এলে ও ধারাবাহিক ভাবে সুযোগ পাবে। ও দাপট দেখাবে।’
অর্থাৎ, এখনই বৈভবের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে চাইছে না ভারতীয় দল। ভবিষ্যতের তারকা হিসাবে তাঁকে ধীরে ধীরে তৈরি করার দিকেই নজর রয়েছে। বয়স মাত্র ১৫ হলেও ব্যাট হাতে তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং আগ্রাসন ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে।

এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেটে সোনা জয়ের পর অবশ্য বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না শ্রেয়সেরা। ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে সোনা জেতার পর মঙ্গলবার থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নামতে হবে ভারতকে। এরপর রয়েছে নিউ জিল্যান্ড সফর। সেখানেও ছোট ফরম্যাটের সিরিজ খেলবে ভারতীয় দল।
একদিকে জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি, অন্য দিকে বৈভবের মতো তরুণ প্রতিভাকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা। ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মের আগমন যে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে, শ্রেয়সের কথাতেই যেন তার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
